লোকসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ ভোটপর্ব মিটতেই রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক। মাত্র কয়েক মাস আগে খুনের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে পুনরায় সসম্মানে দলে ফিরিয়ে নিল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা রাজ্যের সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক।
উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে এক অশীতিপর বৃদ্ধকে পিটিয়ে মারার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় ভাবমূর্তি রক্ষায় কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। খোদ পার্থ ভৌমিক ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছিলেন এবং রবীন্দ্রনাথকে ৬ বছরের জন্য দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। কিন্তু ভোটের উত্তাপ কমতেই সেই কঠোর অবস্থান থেকে সরে এল ঘাসফুল শিবির।
কী ঘটেছিল সেই দিন?
গত ৮ ফেব্রুয়ারি উত্তর ব্যারাকপুরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বেআইনি নির্মাণকে কেন্দ্র করে বচসা বাধে। অভিযোগ ওঠে, প্রতিবাদ করায় তুলসী অধিকারী নামে এক বৃদ্ধকে বেধড়ক মারধর করেন কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ও তাঁর অনুগামীরা। পরে ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হলে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পুলিশ অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করে এবং দল তাঁকে তড়িঘড়ি বহিষ্কার করে। দীর্ঘ কয়েক মাস জেলবন্দি থাকার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ।
তৃণমূলের সাফাই:
কেন এত দ্রুত সিদ্ধান্ত বদল? এই প্রশ্নের উত্তরে পার্থ ভৌমিক জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে। তাঁর দাবি, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে সরাসরি খুনের কোনো অকাট্য প্রমাণ বা অভিযোগ নেই। আইনি এবং সাংগঠনিক দিক বিবেচনা করেই তাঁকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিতর্ক:
ভোট শেষ হওয়ার ঠিক পরেই এই পদক্ষেপকে ঘিরে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। বিজেপি এবং সিপিআইএম-এর দাবি, ভোটের সময় মানুষের ক্ষোভ সামাল দিতে লোকদেখানো বহিষ্কার করা হয়েছিল। এখন কাজ মিটতেই অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের কোল পেতে দিচ্ছে শাসক দল। ব্যারাকপুরের রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল চর্চা। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি শাসক দলে অপরাধীদের শাস্তির মেয়াদ কেবল ভোট পর্যন্তই সীমাবদ্ধ?





