ভোট-পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত বাংলা, আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে মাঠে নামছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠছে রাজ্যজুড়ে চলা ভোট-পরবর্তী হিংসার। এই পরিস্থিতিতে আক্রান্ত দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের পাশে দাঁড়াতে এবার সরাসরি মাঠে নামছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাঁদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করবেন।
তৃণমূলের অভিযোগ, ভোট মিটে গেলেও হিংসার ঘটনা থামার বদলে বরং বাড়ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক্স হ্যান্ডেলের পোস্ট অনুযায়ী, গত ১৬ মে সুন্দরবন সাংগঠনিক জেলায় বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরা তৃণমূলের জেলা পার্টি অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। শুধু তাই নয়, সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে হার্ডডিস্ক নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যাতে ঘটনার কোনো প্রমাণ না থাকে। এছাড়া বিধায়কদের পুলিশি সহায়তা নিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কর্মীদের পরিবারকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ।
শনিবারের এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোনারপুর দক্ষিণ ও বেলেঘাটা বিধানসভা এলাকায় যাবেন। সেখানে তিনি যথাক্রমে সঞ্জু কর্মকার ও বিশ্বজিৎ পট্টনায়কের মতো আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। ভোটের ফলাফলের পর মূলত কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়ে সক্রিয় থাকতে দেখা গেলেও, এবার সরাসরি আক্রান্তের দুয়ারে পৌঁছে যাওয়ার এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের অন্দরে নতুন তাৎপর্য বহন করছে।
হিংসার ঘটনা নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত সরব। দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারিতে সাঁওতাল বিদ্রোহের কিংবদন্তী নায়ক সিধু ও কানহু মুর্মুর মূর্তি ভাঙার ঘটনার নিন্দা করে তিনি এটিকে ‘লজ্জাজনক ও উস্কানিমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি তাঁর এক্স পোস্টে স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, “এটি শুধু ভাঙচুর নয়, এটি সরাসরি আদিবাসী গর্ব, ইতিহাস এবং বাংলার জনজাতি সম্প্রদায়ের পরিচয়ের উপর আক্রমণ।” আদিবাসীদের আবেগের এই অপমান বাংলা সহ্য করবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি এবং দোষীদের অবিলম্বে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিক থেকে, রাজ্য পুলিশও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে আনতে এখন পর্যন্ত ৩০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৩ জনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ১১০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে প্রতিরোধমূলক ধারায় আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে ডিজি পরিষ্কার করেছেন যে, ইয়েলো বুক প্রোটোকল অনুযায়ী একজন সাংসদের জন্য প্রাপ্য ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি বহাল রাখা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরিয়ে আইন-শৃঙ্খলার কাজে লাগানো হলেও, মূল নিরাপত্তায় কোনো কার্পণ্য করা হয়নি। এখন দেখার বিষয়, অভিষেকের এই সরাসরি கள অভিযান এবং পুলিশের ধরপাকড় কতটা দ্রুত রাজ্যের অস্থিরতাকে প্রশমিত করতে পারে।