ভোট নেই, নাম নেই ভোটার তালিকায়? তবুও কি মিলবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার? যা জানালেন নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী

রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে। বিশেষ করে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন থাকা মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। বৃহস্পতিবার সেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।

ট্রাইব্যুনালে নাম থাকলেও মিলবে টাকা

রাজ্যে ‘স্টেট আইডেন্টিটি রেজিস্টার’ বা SIR প্রক্রিয়ার পর প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বর্তমানে বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে। ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় এই মহিলারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল স্পষ্ট জানিয়েছেন, “যাঁদের নাম ট্রাইব্যুনালে রয়েছে বা যাঁদের নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে, তাঁদের নাম প্রকল্প থেকে বাদ যাবে না। তাঁরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন।” এমনকি যাঁরা CAA-এর জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদেরও ভয়ের কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

১ জুন থেকেই চালু হচ্ছে প্রকল্প

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ক্যাবিনেট বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আগামী ১ জুন থেকেই রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি (DBT) মোডের মাধ্যমে টাকা পৌঁছে যাবে উপভোক্তাদের কাছে।

কারা পাবেন আর কারা বাদ পড়ছেন?

প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা নিয়ে মন্ত্রী জানান, যাঁরা আগে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পেতেন, তাঁরা সকলেই এই নতুন প্রকল্পের আওতায় আসবেন। প্রায় ৯১ লক্ষ নাম পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে কড়াকড়িও থাকছে:

  • কারা সুবিধা পাবেন: বর্তমান উপভোক্তারা এবং যাঁদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজ চলছে।

  • কারা বাদ যাবেন: কোনো উপভোক্তা যদি মৃত হন কিংবা কেউ যদি বাংলাদেশের নাগরিক বলে প্রমাণিত হন, তবে তাঁরা এই সুবিধা পাবেন না। SIR থেকে বাদ পড়াদের নাগরিকত্ব সঠিকভাবে যাচাই করার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আবেদনের পদ্ধতি: এখন আরও সহজ

অগ্নিমিত্রা পল জানিয়েছেন, ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক করা হচ্ছে।

  • নতুন আবেদন: যাঁদের নাম আগে থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে আছে, তাঁদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না।

  • অনলাইন পোর্টাল: সাধারণ ও স্বল্প শিক্ষিত মহিলাদের কথা মাথায় রেখে অত্যন্ত সহজ একটি পোর্টাল তৈরি করা হচ্ছে। যাতে মা-বোনেরা বাড়ি বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে আবেদন সেরে ফেলতে পারেন।

রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশি সাধারণ মহিলারা। লক্ষ্মী বনাম অন্নপূর্ণার এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পকেটে কত দ্রুত টাকা পৌঁছায়, এখন সেটাই দেখার।