৪ মে, সোমবার বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারণ। ইভিএম বাক্স খুললেই পরিষ্কার হয়ে যাবে— আগামী পাঁচ বছর নবান্নের দখল কার হাতে থাকছে। কিন্তু গণনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই বিরোধী শিবির থেকে বারবার ‘ভোট চুরির’ বা গণনায় কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সেই সমস্ত জল্পনা ও বিতর্ক এক ঝটকায় উড়িয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) সুব্রত গুপ্ত। তাঁর সাফ বার্তা, “গণনায় কোনও গণ্ডগোল হবে না।”
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, স্বচ্ছতার গ্যারান্টি রবিবার বিকেলে এক সাংবাদিক বৈঠকে সিইও সুব্রত গুপ্ত জানান, নির্বাচন কমিশন গণনার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। বিরোধীদের ‘ভোট লুঠ’ বা ইভিএম বদলের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, “ইভিএম থেকে শুরু করে স্ট্রং রুম— সর্বত্রই ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই প্রতিটি সিল খোলা হবে। ফলে কারচুপির কোনও অবকাশ নেই।”
সুব্রত গুপ্তর কড়া বার্তা গণনাকেন্দ্রের ভেতরে এবং বাইরে কোনও ধরণের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন সিইও। তাঁর মতে, কমিশন এমন এক নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থা করেছে যেখানে একটি ভোটও এদিক-ওদিক করা সম্ভব নয়। তিনি আরও যোগ করেন, “প্রতিটি টেবিলের গণনা এবং রাউন্ডভিত্তিক ফলাফল ডিজিটাল পদ্ধতিতে রেকর্ড করা হবে। স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও জায়গা আমরা রাখছি না।”
উত্তেজনা প্রশমনে জোর নির্বাচন পরবর্তী হিংসা বা গণনার দিন অশান্তির আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সুব্রত গুপ্ত স্পষ্ট করেছেন, নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তো থাকছেনই, তার পাশাপাশি প্রতিটি কাউন্টিং হলের অন্দরে সিসিটিভি ক্যামেরার কড়া নজরদারি থাকবে। রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কোনও ধরণের অভিযোগ পাওয়ামাত্রই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
৪ মে সকাল ৮টা থেকেই শুরু হবে সেই ‘মহা-কাউন্টডাউন’। কমিশনের এই কড়া অবস্থান এবং সিইও-র আশ্বাসের পর বিরোধী শিবির কতটা আশ্বস্ত হয়, সেটাই এখন দেখার। তবে সাধারণ ভোটারদের জন্য কমিশনের এই বার্তা যে অনেকটাই স্বস্তিদায়ক, তা বলাই বাহুল্য।





