ভোটের মুখে ঝাড়গ্রামে তৃণমূল কর্মীদের ওআরএস (ORS) ভেবে ভুলবশত ঘাস মারার বিষ পান করার ঘটনায় রীতিমতো স্তম্ভিত রাজনৈতিক মহল। এই ঘটনার রেশ টেনেই রবিবার জনসভা থেকে দলের কর্মীদের কড়া ভাষায় সতর্ক করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাফ জানিয়ে দিলেন, “ভোটের সময় বাইরে যে যা দেবে, একদম খাবেন না।”
ঝাড়গ্রামের সেই অভিশপ্ত শনিবার: শনিবার ঝাড়গ্রামের সভা থেকে ফেরার পথে ওআরএস ভেবে ঘাস মারার বিষ পান করেছিলেন বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। মমতা জানান, তিনি সারাক্ষণ তাঁদের খোঁজ নিয়েছেন এবং বর্তমানে তাঁরা সুস্থ আছেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
মমতার নিজের ‘ভয়ংকর’ অভিজ্ঞতা: কর্মীদের সতর্ক করতে গিয়ে নিজের জীবনের এক অন্ধকার অধ্যায় তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কেন তিনি বাইরের খাবার বা চা এড়িয়ে চলেন:
বরানগরের সেই ঘটনা: মমতা জানান, আগে তিনি বাইরে চা চেয়ে খেতেন। একবার বরানগরের এক সভায় চা খাওয়ার পর তাঁর মাথা ঘুরতে শুরু করে, শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। নিজের কাছে থাকা ওষুধ খেয়ে সে যাত্রায় রক্ষা পান তিনি। সেই থেকেই বাইরের খাবারে তাঁর ‘না’।
খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বড় তথ্য: নেত্রী জানান, গত ২০ বছর ধরে তিনি ভাত বা রুটি কিছুই খান না। দিনে মাত্র একবার নিজের মতো করে যৎসামান্য খাবার খান তিনি। বাইরের এক কাপ চাও তিনি স্পর্শ করেন না।
সিপিএম আমল ও প্রাথমিক চিকিৎসা: বিরোধীদের বিঁধে মমতা বলেন, “সিপিএম-এর আমলে এত মার খেয়েছি যে টুকটাক প্রাথমিক চিকিৎসা এখন আমি নিজেই বুঝি।” কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর কড়া বার্তা— খাওয়ার আগে অন্তত দেখে নিন সেটা ঠিক জিনিস কি না। কারণ, ভোটের বাজারে ছোট একটা ভুল বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
ঝাড়গ্রামের এই বিষ-কাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে তৃণমূল নেত্রী যেভাবে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কড়াকড়ি সামনে আনলেন, তা এখন রাজনৈতিক মহলে হট টপিক।





