রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার হাইভোল্টেজ নির্বাচনের ঠিক আগের দিন ফের রণংদেহি মেজাজে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নিশানায় খোদ কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক। কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (DC) শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে মঙ্গলবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করেছে ইডি। সোমবার রাতেই তাঁর কাছে পৌঁছে গিয়েছে এই নোটিশ। ভোটের আবহে এক পদস্থ পুলিশ কর্তার এই তলব ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দক্ষিণ কলকাতার কুখ্যাত জমি মাফিয়া বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-র বিরুদ্ধে চলা একাধিক মামলাই শান্তনু সিনহার বিপদ বাড়িয়ে তুলেছে। সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি দখল, তোলাবাজি এবং অস্ত্র আইনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এই মামলার তদন্তে নেমেই ইডি সম্প্রতি বেহালার ব্যবসায়ী জয় এস কামদারকে গ্রেফতার করে। সেই সূত্র ধরেই চলতি মাসের শুরুতে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ফার্ন রোডের বাড়িতে ভোররাত পর্যন্ত ম্যারাথন তল্লাশি চালায় ইডি।
উল্লেখ্য, এটিই প্রথম তলব নয়। এর আগেও সোনা পাপ্পু সংক্রান্ত মামলায় শান্তনু এবং তাঁর দুই ছেলে সায়ন্তন ও মণীশকে তলব করা হয়েছিল, যদিও তাঁরা হাজিরা দেননি। এছাড়া বালি পাচার সংক্রান্ত আর্থিক তছরুপের তদন্তেও কালীঘাট থানার প্রাক্তন এই ওসির নাম জড়িয়েছে। গত সপ্তাহে সেই মামলায় তলব করা হলেও পেশাগত ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে হাজিরা এড়িয়েছিলেন তিনি। তবে এবার ইডি আর কোনও সময় দিতে নারাজ। বালি পাচার এবং সোনা পাপ্পু মামলার আর্থিক লেনদেনের মধ্যে কী যোগসূত্র রয়েছে, তা জানতেই এই পুলিশ কর্তাকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চান তদন্তকারীরা।





