ভোটের সকালেই চরম উত্তেজনা! মুগুর নিয়ে নামার হুমকি দিতেই বিধায়ককে যেভাবে তুলল পুলিশ, জানলে শিউরে উঠবেন!

উপনির্বাচনের সকাল মানেই যেখানে উৎসবের আমেজ থাকার কথা, সেখানে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে তৈরি হলো এক চরম রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি। ভোটগ্রহণ শুরুর আগে থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন এজেপি (AJUP) প্রধান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এমনকি ভোটের প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বাধা দেওয়ার চেষ্টা হলে রাস্তায় লাঠি বা মুগুর নিয়ে নেমে পড়ার মতো বিস্ফোরক হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর এই সরাসরি চ্যালেঞ্জ ও আইনকে অমান্য করার হুমকির পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বড় পদক্ষেপ নেয় পুলিশ এবং তাঁকে আটক করে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটদানের পবিত্র পরিবেশ বিঘ্নিত করা, প্ররোচনামূলক ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিজের হাতে তুলে নেওয়ার হুমকির কারণেই হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভোট শুরুর আগে যখন গোটা এলাকায় ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির এহেন আক্রমণাত্মক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সাধারণ মানুষের অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতেই পুলিশ তাঁকে টেনেহিঁচড়ে থানায় তুলে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর থেকেই রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ হু হু করে চড়েছে। একদিকে যখন বিরোধীরা হুমায়ুন কবীরের এই আচরণকে একনায়কসুলভ ও বেআইনি বলে তোপ দাগছেন, অন্যদিকে তাঁর অনুগামীরা পুলিশের এই জোরপূর্বক আটকের তীব্র প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন গোটা ঘটনার ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং জেলা প্রশাসনের কাছে বিশদ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। ভোটের দিন সকালে এই হাই-ভোল্টেজ নাটক এবং বিধায়কের আটকের পর রেজিনগরের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।