যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ মিছিলে নারী হেনস্তার অভিযোগ! পদোন্নতি থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ালেন দিল্লি পুলিশের এসিপি!

মহিলা সাংবাদিকদের হেনস্তার গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হয়ে তদন্ত চলাকালীন পদোন্নতি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করলেন দিল্লি পুলিশের এসিপি বিবেক ভগত। জেন্ডার সেন্সিটিভিটি ও পেশাগত সততার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (Additional DCP) হিসেবে নিজের দায়িত্ব গ্রহণ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। তাঁর এই মহৎ অনুরোধের প্রেক্ষিতে দিল্লি সরকার তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পদোন্নতির আদেশ স্থগিত করেছে এবং নতুন সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে একটি সরকারি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে যে, গত ৫ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রশাসনিক আদেশটি সংশোধন করা হচ্ছে। পূর্বের ওই বিজ্ঞপ্তিতে ড্যানিপস (DANIPS) সার্ভিসের ১২ জন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। তবে বিবেক ভগতের ব্যক্তিগত ও লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে তাঁর নাম বাদ দিয়ে বাকি ১১ জন কর্মকর্তার জন্য সংশোধিত আদেশটি পুনরায় জারি করা হবে।
সরকার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার এই প্রশাসনিক প্রস্তাবটি বর্তমান বিতর্কের অনেক আগেই গত ২৫ আগস্ট নেওয়া হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হয়। সরকার আরও জানিয়েছে যে, এই অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান সম্পূর্ণ একটি সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছিল, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অতিরিক্ত কোনো আর্থিক সুবিধা পাবেন না এবং নিয়মিত অতিরিক্ত ডিসিপি পদের কোনো বিধিবদ্ধ ক্ষমতাও ভোগ করবেন না।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবারে যন্তর মন্তরে ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা)-এর আয়োজিত এক প্রতিবাদ মিছিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় তিন জন মহিলা সাংবাদিক দিল্লির কিছু পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন। এই ঘটনার পর থেকেই বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করে। এই আবহে বিবেক ভগত সরকারের কাছে লিখিত আবেদন জানান যে, মহিলা সাংবাদিকদের হেনস্তার এই অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষ না হওয়া এবং তা সন্তোষজনকভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যেন তাঁকে কোনো প্রকার অতিরিক্ত দায়িত্ব বা পদোন্নতি দেওয়া না হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর এই আবেদনের সম্মান জানিয়েই ৫ অক্টোবরের মূল আদেশটি সংশোধন করা হয়েছে এবং বাকি ১১ জনের ক্ষেত্রে আদেশ বহাল রাখা হয়েছে।