দলবদলেই বাজিমাত! তৃণমুল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েই বড় পদ কোয়েলের, কী সাফারি দিলেন শমীক?

তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দেওয়ার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ কোয়েল মল্লিককে পদ্ম শিবির সরাসরি নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করায় দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে গুঞ্জন। ঠিক এই রকম এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কোয়েল মল্লিকের দলবদল ও প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে মুখ খুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই এখন নতুন করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। গত সোমবার বিধানসভায় রাজ্যসভা উপনির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন জমা দেন কোয়েল মল্লিক। সেই সময় তাঁর পাশেই উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কোয়েলের এই আকস্মিক দলবদল এবং একলাফে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ প্রাপ্তি নিয়ে যখন দলের আদি কর্মী ও বিরোধীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে, তখন শমীক ভট্টাচার্য পুরো বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। শমীক বাবু স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, রাজনৈতিক দল সবসময় পরিধি বাড়াতে চায় এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ও জনপ্রিয় মুখেরা যখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলে যোগ দেন, তা সংগঠনের শক্তিই বৃদ্ধি করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে কোয়েল মল্লিকের সরাসরি বিজেপিতে নাম লেখানো এবং রাজ্যসভার টিকিটের দৌড়ে এগিয়ে থাকা বাংলার সমসাময়িক রাজনীতিতে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। একদিকে যখন সাধারণ কর্মী ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই শমীক ভট্টাচার্যের এই জোরালো বাচনভঙ্গি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনকেই স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। সবমিলিয়ে, কোয়েল মল্লিকের এই হাই-প্রোফাইল যোগদান এবং শীর্ষ নেতাদের সান্নিধ্য আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ কতটা বদলাবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।