প্রশান্ত মহাসাগরে ভয়ঙ্কর টাইফুনের তাণ্ডব! জাপানের দিকে কি ধেয়ে আসছে প্রলয়ংকরী নোলো?

এল নিনোর ভয়াবহ প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে একের পর এক শক্তিশালী ঝড় তৈরি হওয়ার আশঙ্কা সত্যি করে এবার ফুঁসে উঠেছে ‘নোলো’ (Nolo)। আন্তর্জাতিক তারিখরেখা অতিক্রম করার পরেই এই ঘূর্ণিঝড়টি তার নাম ও রূপ পরিবর্তন করে বর্তমানে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী টাইফুনে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, উত্তর আটলান্টিক ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে যাকে এতদিন ‘হারিকেন নোলো’ বলা হচ্ছিল, ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা পেরিয়ে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশ করার পরই সেটি আনুষ্ঠানিকভাব ‘টাইফুন নোলো’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক তারিখরেখা পেরোনোর আগে নোলো অত্যন্ত দ্রুত গতিতে শক্তি সঞ্চয় করেছিল। এর সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। জাপান আবহাওয়া সংস্থার সর্বশেষ বিশ্লেষণ বলছে, এই মুহূর্তে টাইফুন নোলোর সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি রয়েছে প্রায় ১৭৬ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। তবে বিশেষজ্ঞদের স্বস্তির খবর, আগামী দিনে ধীরে ধীরে এই ঝড়ের তীব্রতা ও শক্তি হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, হারিকেন এবং টাইফুনের মধ্যে তাত্ত্বিক বা প্রকৃতির দিক থেকে কোনো তফাত নেই। মূলত ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই এই নামকরণ করা হয়। উত্তর আটলান্টিক এবং মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঝড়কে হারিকেন বলা হলেও, ঠিক একই ধরনের প্রলয়ংকরী ঝড় যখন উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রবেশ করে, তখন তাকে টাইফুন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। নোলোর ক্ষেত্রেও ঠিক এই ভৌগোলিক নিয়মেই নাম পরিবর্তিত হয়েছে।
আবহাওয়ার সাম্প্রতিক পূর্বাভাস বলছে, টাইফুন নোলো আপাতত পশ্চিম দিক থেকে ধীরে ধীরে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। আগামী ১০ অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ে এই শক্তিশালী সিস্টেমটি জাপানের দক্ষিণের সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থান নিতে পারে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই মুহূর্তে জাপানের কোনো মূল ভূখণ্ডে সরাসরি আছড়ে পড়ার আশঙ্কা নেই। কিন্তু ঝড়ের প্রত্যক্ষ প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি মারাত্মকভাবে উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। ঝড়ের কেন্দ্রের চারপাশে প্রবল গতির ঝোড়ো হাওয়া এবং বিশাল আকৃতির সামুদ্রিক ঢেউ তৈরি হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথ এবং গভীর সমুদ্রে চলাচলকারী জাহাজগুলির জন্য ইতিমধ্যেই উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা গোটা পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। নোলোর গতিপথ এবং এর শক্তি ক্ষয়ের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরবর্তী পদক্ষেপ।