পশ্চিমবঙ্গে টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের বিধানসভা নির্বাচনের মহারণ। গতকাল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের সাথেই যবনিকা পতন ঘটল এই গণতান্ত্রিক উৎসবের। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার পর গতকাল দ্বিতীয় দফার ভোটদান সম্পন্ন হতেই এখন সবার নজর ইভিএম কেন্দ্র বা স্ট্রংরুমগুলির দিকে। আগামী ৪ জুন ফলাফল ঘোষণার দিন পর্যন্ত রাজ্যের ভাগ্য এখন তালাবন্ধ ঘরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের কড়া পাহারায় বন্দি।
বিধাননগর কলেজের স্ট্রংরুমে নিরাপত্তার এক নজিরবিহীন ছবি ধরা পড়েছে। এখানে রাজারহাট-নিউটাউন, বিধাননগর এবং রাজারহাট-গোপালপুর—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম রাখা হয়েছে। কলেজের ওল্ড বিল্ডিংকে বানানো হয়েছে অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম, যেখান থেকে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি মনিটরিং করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, প্রবেশ বা প্রস্থানের পথে কোনো অবৈধ ব্যক্তি বা জমায়েত বরদাস্ত করা হবে না। বাইরে রাজ্য পুলিশ থাকলেও, স্ট্রংরুমের ভেতরের মূল দায়িত্ব সামলাচ্ছে আধাসামরিক বাহিনী। জেলা শাসক ও রিটার্নিং অফিসারকে প্রতিদিন সশরীরে হাজির থেকে প্রতি মুহূর্তের রিপোর্ট কমিশনকে পাঠাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের (কাশীপুর-বেলগাছিয়া, চৌরঙ্গি, শ্যামপুকুর, জোড়াসাঁকো, বেলেঘাটা, মানিকতলা ও এন্টালি) ইভিএম সুরক্ষিত রাখতে তৈরি করা হয়েছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। প্রথম স্তরে কেন্দ্রীয় বাহিনী, দ্বিতীয় স্তরে রাজ্য পুলিশের আধিকারিক এবং তৃতীয় স্তরে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বড় পর্দায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
একই ছবি বর্ধমানেও। বর্ধমান শহরের ইউআইটি (UIT) বিল্ডিংয়েও নিরাপত্তার কোনো খামতি রাখা হয়নি। পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকেই ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না। বর্ধমান, কালনা ও কাটোয়ার সমস্ত ভাগ্য-নির্ধারক মেশিনগুলি এখন পাহারায়। সাধারণ মানুষের রায় এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। আগামী ৪ তারিখ যখন এই কক্ষের তালা খুলবে, তখনই জানা যাবে বাংলার মসনদে শেষ হাসি কে হাসবে।





