ভোটের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। বৃহস্পতিবার সকালে বনগাঁ পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল তৃণমূল ও বিজেপি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, বনগাঁ থানার সামনে রাস্তায় বসে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনীয়া।
বিজেপির বিস্ফোরক অভিযোগ
বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনীয়ার দাবি, সকালে দলীয় কর্মীদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রচার করার সময় স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর পাপাই রাহার নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের মারধর করার পাশাপাশি এক মতুয়া ভক্তের পবিত্র ‘আচার মালা’ ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তুলে দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে অনড় বিজেপি। অশোক কীর্তনীয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে পদক্ষেপ করতেই হবে, নাহলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।”
তৃণমূলের পাল্টা বয়ান
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য যাবতীয় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক হামলা নয়, বরং ‘জনরোষ’। এলাকার মহিলারা অভিযোগ তুলেছেন যে, গত পাঁচ বছরে বিধায়ককে এলাকায় দেখা যায়নি। আজ তিনি ভোট চাইতে এলে সাধারণ মানুষ উন্নয়নের হিসাব চেয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের পাল্টা অভিযোগ, প্রশ্ন করায় উল্টে বিজেপি কর্মীরাই সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়েছে।
উত্তপ্ত বনগাঁর রাজনীতি
ঘটনার খবর পেয়েই বনগাঁ থানার পুলিশ বিশাল বাহিনী নিয়ে এলাকায় পৌঁছয়। একদিকে বিজেপি যখন প্রচারের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে তৃণমূল একে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে গোটা উত্তর বিধানসভা এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও।





