ভাঙড়ের উত্তপ্ত রাজনীতিতে এবার নতুন সমীকরণ। দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় ভাঙন ধরল হুমায়ুন কবীরের জনতা উন্নয়ন পার্টিতে। রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়ে দলের প্রার্থী সীমা ভট্টাচার্য আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন। ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক তথা ভাঙড়ের পর্যবেক্ষক শওকত মোল্লার হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা তুলে নিয়ে তিনি নতুন লড়াইয়ের ডাক দিলেন।
সীমা ভট্টাচার্যের এই দলবদল কেবল একটি সাধারণ যোগদান নয়, বরং ভাঙড়ের রণকৌশলে এক বিশাল রদবদল বলে মনে করা হচ্ছে। যোগদান মঞ্চ থেকেই শওকত মোল্লাকে নিজের ‘গুরু’ বলে সম্বোধন করেন সীমা। যা মুহূর্তের মধ্যে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “এই লড়াই কেবল শওকত মোল্লা বনাম নওশাদ সিদ্দিকীর নয়, এটি বাঙালির আত্মসম্মান রক্ষার লড়াই।”
এদিকে এই যোগদান অনুষ্ঠান থেকে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভাষায় বিঁধলেন শওকত মোল্লা। কমিশনের কড়াকড়ি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি রীতিমতো শ্লেষের সুরে বলেন, “নির্বাচন কমিশন যেভাবে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করছে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থাকলেও বোধহয় কমিশনের অনুমতি নিতে হবে!” শওকতের এই বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য ইতিম্যধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় তুলেছে।
ভাঙড়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের সংগঠন এই যোগদানের ফলে আরও মজবুত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আরাবুল ইসলামের সাম্প্রতিক অবস্থান এবং এখন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থীর দলবদল—সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার আগে ভাঙড়ে অ্যাডভান্টেজ তৃণমূল, না কি নওশাদ শিবিরের চ্যালেঞ্জ বজায় থাকবে, সেটাই এখন দেখার।





