রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে যখন নারী সুরক্ষা এবং মহিলা নির্যাতনের ইস্যুকেই প্রধান হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে গেরুয়া শিবির, ঠিক সেই আবহেই বীরভূমে বড়সড় ধাক্কা খেল বিজেপি। এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হলেন সিউড়ি শহর বিজেপির সহ-সভাপতি দেবাশিস ঘোষাল। রবিবার রাতে এক মহিলার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সিউড়ি থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। সোমবার ধৃতকে সিউড়ি জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক জামিনের আবেদন খারিজ করে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণী ওই মহিলার সঙ্গে ধৃত দেবাশিসের আগে থেকেই আলাপ ছিল। নির্যাতিতার দাবি, সেই পরিচয়ের সুযোগ নিয়েই তাঁর ওপর শারীরিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। রবিবার রাতে থানায় গিয়ে বলপূর্বক সহবাসের অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। পুলিশ ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪, ৩৩২ ও ৩৫১ ধারায় মামলা রুজু করেছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি সাজানো ঘটনা। ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর কেন অভিযোগ দায়ের করা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ধৃতের আইনজীবী সোমনাথ মুখোপাধ্যায়। আগামী ১১ মে এই মামলার কেস ডায়েরি তলব করেছে আদালত।
ভোটের উত্তাপে এই ঘটনা বীরভূমের রাজনৈতিক সমীকরণকে বেশ তপ্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে আরজি কর ইস্যু এবং মহিলা নিরাপত্তা নিয়ে যখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্য সরকারকে কড়া আক্রমণ শানাচ্ছেন, তখন খোদ দলের এক পদাধিকারীর বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ গেরুয়া শিবিরকে রক্ষণাত্মক করে তুলেছে। শাহ্ তাঁর প্রচারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধীদের ‘পাতাল থেকেও খুঁজে বের করে’ শাস্তি দেওয়া হবে। এখন সিউড়ির এই ঘটনায় তৃণমূলের তরফে পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়েছে। ভোটের মুখে পোলিং এজেন্টের দায়িত্ব সামলানো এক সক্রিয় নেতার কারাবাস বীরভূমে বিজেপির অস্বস্তি বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





