চলন্ত লোকাল ট্রেন থেকে ধাককে ফেলে খুন! মুম্বইয়ে বিশেষভাবে সক্ষম বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত দেশ

মুম্বইয়ের ব্যস্ত উপনগরীয় লোকাল ট্রেন নেটওয়ার্কে ফের এক বীভৎস ও মর্মান্তিক সহিংসতার ঘটনা প্রকাশ্যে এল, যা গোটা দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। চলন্ত লোকাল ট্রেনের ভেতরে সিট বসা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে এক সহযাত্রীর মারাত্মক ধাক্কায় ট্রেন থেকে ছিটকে পড়ে ৬২ বছর বয়সি এক বিশেষভাবে সক্ষম প্রবীণ ব্যক্তির করুণ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। জনবহুল এই গণপরিবহন ব্যবস্থায় সামান্য বচসা কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে, এই বর্বরোচিত ঘটনা তারই এক চরম ও নৃশংস উদাহরণ।

রেল পুলিশ (GRP) সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অত্যন্ত দুঃখজনক এই ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার দুপুর দেড়টা নাগাদ। চার্চগেট থেকে ছেড়ে আসা বোরিভালিগামী একটি ভিড়েভাট্টায় ভরা লোকাল ট্রেন তখন মাহিম ও বান্দ্রা রেলওয়ে স্টেশনের ঠিক মাঝামাঝি অংশে অবস্থান করছিল। মৃত প্রবীণ ব্যক্তির নাম কেজিটান পল ডেনিস পিরিস (Ketan Paul Denis Peris), যিনি সান্তাক্রুজ-পূর্ব এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। ট্রেনটি যখন তীব্র গতিতে ছুটছিল, ঠিক সেই সময়ই বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের জন্য বিশেষভাবে সংরক্ষিত কামরার ভেতরে একটি বসার আসন দখল করাকে কেন্দ্র করে পিরিসের সঙ্গে অভিযুক্ত আমজাদ সাফরিদ্দিন শেখ (৪৮)-এর তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডা চরম পর্যায়ে পৌঁছালে অভিযুক্ত আমজাদ তীব্র আক্রোশে প্রবীণ বৃদ্ধকে চলন্ত ট্রেনের খোলা দরজা দিয়ে সজোরে ধাক্কা মেরে বাইরে ফেলে দেন।

তবে এই নৃশংস ঘটনার পরেই ট্রেনের ভেতরে থাকা অন্য সাহসী সহযাত্রীরা চরম তৎপরতা দেখিয়ে অভিযুক্ত আমজাদ শেখকে হাতেনাতে ঘিরে ধরে কাবু করে ফেলেন। ট্রেনটি যখন পরবর্তী স্টেশন অর্থাৎ বান্দ্রা স্টেশনে গিয়ে এসে পৌঁছায়, তখন যাত্রীরা অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। অন্যদিকে, গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় পিরিসকে উদ্ধার করে দ্রুত বান্দ্রার ভাভা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি; চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। বান্দ্রা জিআরপি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আমজাদ শেখের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১০৩ (১) ধারায় সরাসরি হত্যার সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করে তাকে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেনে এই ধরনের হিংসাত্মক ও প্রাণঘাতী ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে চলতি বছরের জুনের শেষ সপ্তাহে আন্ধেরি ও বোরিভালি স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে একটি ফার্স্ট-ক্লাস কামরায় বৃষ্টির সময় ট্রেনের দরজা খোলা রাখা নিয়ে তীব্র ঝামেলার জেরে রোশন রমেশ সুবর্ণা (৩০)-এর হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছিলেন ২২ বছরের যুবক ময়াঙ্ক লোহার। এমনকি গত ২৪ জানুয়ারি মালাড স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছানো একটি লোকাল ট্রেনেও সামান্য বচসার জেরে ৩৩ বছরের এক গণিতের অধ্যাপক অলোক কুমার সিংকে ধারালো চিমটা দিয়ে পেটে আঘাত করে খুন করার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছিল। একের পর এক এই ধরনের নৃশংস অপরাধ সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করেছে এবং লোকাল ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিয়েছে।