২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কলকাতায় এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন ও লালবাজার। ভোটকে রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণ রাখতে শহরজুড়ে মোতায়েন করা হচ্ছে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, যার সদস্য সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার। এর পাশাপাশি মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাস্তায় নামছেন আরও ১০ হাজার পুলিশকর্মী।
অস্ত্র ও নগদ উদ্ধারে পুলিশের সাফল্য:
ভোটের আগে শহরের আনাচে-কানাচে তল্লাশি চালিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখনও পর্যন্ত ২৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৬৭টি গুলি এবং ১৭২টি বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, বেআইনি অর্থ পাচার রুখতে অভিযানে নেমে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ সোনা। লালবাজারের গোয়েন্দাদের বিশেষ অভিযানে ধরা পড়েছে টালিগঞ্জের ‘ম্যান্ডেলা’, পঞ্চসায়রের ‘বল্টু’ এবং একবালপুরের ‘শাকা’-র মতো কুখ্যাত দুষ্কৃতীরা।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা পরিকাঠামো:
কলকাতার ১৯৬১টি ভোটকেন্দ্রে ৫১৭২টি বুথের সুরক্ষায় মোতায়েন থাকছে ১৬০টি আরটি মোবাইল এবং ২২৯টি কুইক রেসপন্স টিম (QRT)। এ ছাড়া ৩০৬টি অতিরিক্ত কিউআরটি এবং ৮০টি হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড শহরের প্রতিটি মোড়ে কড়া নজরদারি চালাবে। প্রতিটি স্ট্রাইকিং ফোর্সের দায়িত্বে থাকবেন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিকরা।
বুথের সুরক্ষা ব্যবস্থা:
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ৩২৪টি সেকশন মূলত ফ্লাইং স্কোয়াড এবং এসএসটি-র কাজে ব্যবহৃত হবে। বাকি বাহিনী সামলাবে ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা। তবে বুথের ভেতরে কোনো সশস্ত্র পুলিশকর্মী থাকবেন না; সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন শুধুমাত্র লাঠিধারী পুলিশ কনস্টেবলরা। সব মিলিয়ে, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে প্রশাসন এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে।





