ভোটের আগে চরম বিতর্ক! ‘বোরখা পরা মহিলাদের মুখ দেখতে হবে’, দিলীপ জয়সওয়ালের মন্তব্যে তোলপাড় বিহারের রাজনীতি

আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক মন্তব্যের জেরে তুমুল বিতর্কের কেন্দ্রে বিহার বিজেপি। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ জয়সওয়াল সরাসরি প্রস্তাব দিয়েছেন, বোরখা পরিহিত মহিলা ভোটারদের মুখ ভোটকেন্দ্রে যাচাই করা হোক। তাঁর এই দাবি ঘিরে প্রধান বিরোধী দল আরজেডি (RJD) অভিযোগ তুলেছে— বিজেপি সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করে ‘ঘৃণার রাজনীতি’ করছে।
বিজেপি সভাপতির দাবি: জাল ভোট ঠেকাতে মুখ যাচাই জরুরি
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে পাটনায় এক বৈঠকে এই প্রস্তাব দেন দিলীপ জয়সওয়াল। তাঁর যুক্তি স্পষ্ট: মুখ ঢাকা অবস্থায় ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে জাল ভোটের আশঙ্কা থেকে যায়। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, “ভোটারদের মুখ তাদের ভোটার আইডি (EPIC কার্ড)-এর ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত, বিশেষ করে বোরখা পরা মহিলাদের ক্ষেত্রে, যাতে প্রকৃত ভোটাররাই ভোট দিতে পারেন।”
আরজেডি’র তীব্র আক্রমণ: ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’
বিজেপি সভাপতির এই মন্তব্যের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় আরজেডি। দলের সাংসদ অভয় কুশওয়াহা বলেন, “এটা একেবারে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। যখন নতুন EPIC কার্ডে নতুন ছবি রয়েছে, তখন চিহ্নিত করতে অসুবিধা কোথায়? বিজেপি আসলে তাদের নিজের এজেন্ডা চাপিয়ে দিতে চাইছে।”
উপমুখ্যমন্ত্রীর সমর্থন: ‘আইন সবার জন্য সমান’
যদিও এই বিতর্কে নিজ দলের সভাপতির পাশে দাঁড়িয়েছেন বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা বিজয় সিনহা। তাঁর যুক্তি: সংবিধান অনুযায়ী আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মহিলা বোরখা পরুন বা না পরুন, যদি নির্বাচন কমিশন ভোটার চেনার জন্য মুখ যাচাইয়ের নিয়ম চালু করে, তা সবার জন্যই এক হবে। এমন হতে পারে না যে, ঘোমটা দেওয়া হিন্দু মহিলার মুখ দেখা যাবে, কিন্তু বোরখাপরা মহিলার মুখ দেখা যাবে না।” তিনি নিশ্চিত করেন যে, মহিলা অফিসাররাই এই যাচাইয়ের কাজ করবেন।
তবে বিজয় সিনহা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে এবং সরকার তা মান্য করবে।
ফের পুরোনো বিতর্ক
প্রসঙ্গত, এর আগেও হায়দরাবাদ লোকসভা আসনে একই ধরনের বিতর্ক হয়েছিল। তখনকার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার বলেছিলেন, ভোটারদের পরিচয় যাচাই অবশ্যই হবে, কিন্তু সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা রেখেই।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের উত্তাপ যত বাড়ছে, বিজেপির এই কৌশলগত মন্তব্য সামাজিক বিভাজনকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।