সচেতনতার অভাবে মর্মান্তিক পরিণতি, জলাতঙ্কে ছটফট করে বাসের মধ্যেই মারা গেলেন পুরুলিয়ার ব্যক্তি, কুকুরে কামড়ানোর কথা গোপন রেখেছিল পরিবার

মারাত্মক রোগ জলাতঙ্কে (Rabies) আক্রান্ত হয়ে পুরুলিয়ার বরাবাজারে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বরাবাজার থানার গিদিঘাটি গ্রামের বাসিন্দা, বছর ৪০-এর রামকানাই সিং সর্দার-কে প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস আগে একটি কুকুরে কামড়ায়। কিন্তু রামকানাই ও তাঁর পরিবার পুরো বিষয়টি গোপন রাখেন এবং সঠিক সময়ে কোনো চিকিৎসা করাননি।

চিকিৎসায় অনীহা ও পালানোর চেষ্টা:

চলতি মাসে রামকানাইয়ের শরীরে জলাতঙ্কের উপসর্গ দেখা যেতেই তাঁকে বরাবাজার প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

  • রোগ নির্ণয়: চিকিৎসক পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে ওই ব্যক্তি জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়েছেন। খবর চাউর হতেই হাসপাতাল চত্বরে এবং অন্যান্য রোগী ও তাঁদের পরিজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

  • পালানোর চেষ্টা: চিকিৎসাধীন অবস্থায় রামকানাই হাসপাতাল থেকে দু’বার পালিয়ে যান। থানায় খবর দিলে পুলিশ তাঁকে বরাবাজার ব্লক সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করে ফের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায় এবং হাসপাতালেই পাহারার ব্যবস্থা করা হয়।

  • শেষ চেষ্টা: পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকেও তিনি তাঁর বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে পালিয়ে যান।

মর্মান্তিক মৃত্যু:

হাসপাতাল থেকে পালিয়ে রামকানাই একটি বেসরকারি বাসে করে বাড়ির দিকে রওনা দেন। মুদিডি গ্রামের কাছে বাসের মধ্যেই ছটফট করতে করতে তাঁর বৃদ্ধা মায়ের কোলে মৃত্যু হয়।

মৃতের পরিবারের সদস্যরা স্বীকার করেছেন, কয়েক মাস আগে কুকুরে কামড়ানোর কথা গোপন রাখা হয়েছিল এবং কোনো চিকিৎসা করানো হয়নি। পরবর্তীতে অতিরিক্ত জ্বর এবং জলাতঙ্কের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

বরাবাজারের বিএমওএইচ (Block Medical Officer of Health) ড. শুভাশিস মুদি এই বিষয়ে বলেন, “ওই ব্যক্তি আমাদের হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। ওনার যা উপসর্গ ছিল তা জলাতঙ্কের মতোই। উনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় বারবার হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। রাস্তাতে বাসের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়েছে।”

সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।