ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারী! মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘জনবিন্যাস পরিবর্তনের’ অভিযোগ, FIR-এর দাবি নিয়ে কমিশনে শুভেন্দু অধিকারী

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতি যখন উত্তাল, ঠিক তখনই শুক্রবার দিল্লিতে ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতীর সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গে ‘কীভাবে অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকিয়ে ভোটার লিস্টে নাম তোলা হয়েছে’, সেই সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর অভিযোগ নিয়েই তিনি কমিশনের দরবারে হাজির হন।

কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ তুলে ধরেন।

শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবি: ‘জনবিন্যাস পরিবর্তনের চেষ্টা’
বিরোধী দলনেতার মূল অভিযোগ, সীমান্ত দিয়ে বহু অনুপ্রবেশকারী এ রাজ্যে প্রবেশ করছেন এবং তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় তোলা হয়েছে। এর লক্ষ্য—”পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাস পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”

শুভেন্দু অধিকারী আরও দাবি করেন, “এঁদের মধ্যে অনেকেই একাধিকবার ভোট দিয়েছেন। অনেকে আবার জানিয়েছেন, তাঁদের বাড়ি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায়। এর থেকে বড় প্রমাণ আর হয় না।” তিনি জানান, বিজেপি এই সমস্ত বিষয়ে পদক্ষেপ করার আশ্বাস কমিশনের কাছ থেকে পেয়েছে।

তিন জেলাশাসকের বিরুদ্ধে FIR-এর দাবি ও O.T.P. চুরির অভিযোগ
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর অভিযোগের সপক্ষে জনবিন্যাস পরিবর্তনের একটি ম্যাপ কমিশনে জমা দিয়েছেন এবং জেলাভিত্তিক তথ্য দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগের মূল ক্ষেত্রগুলি হল:

অবৈধ অনুপ্রবেশ: জেলাশাসকদের সাহায্য নিয়ে আইপ্যাক (I-PAC) উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমান-সহ একাধিক জেলায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকায় রেখে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

O.T.P. চুরি: পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলির জেলাশাসকরা বেআইনিভাবে BLO-দের (বুথ লেভেল অফিসার) থেকে ওটিপি (OTP) চেয়েছেন, এই মর্মে বিএলও-রা অভিযোগও জানিয়েছেন।

কমিশনের নালিশ: এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, কমিশন যেন অবিলম্বে এই তিন জেলাশাসকের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করে।

রাজনৈতিক যোগাযোগ: গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের এক আধিকারিক নিয়মিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখে চলেছেন। এই সংক্রান্ত তথ্যও কমিশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

‘সন্তষ্ট নই, কড়া পদক্ষেপ চাই’
শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, জেলাশাসকদের সাসপেন্ড করা হলেও কেন তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হচ্ছে না, বা কেন ৬৭ জন বিএলওর নামে কোনো এফআইআর হবে না, তা তিনি জানতে চান। বৈঠকের শেষে তিনি বলেন, “আজকের বৈঠক থেকে আমরা সন্তুষ্ট বলব না, কড়া পদক্ষেপ চাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএলএদের পাওনা টাকার ফাইল অর্থ দফতরে আটকে রয়েছে।

অন্যদিকে, কমিশন জানিয়েছে, এবার থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদেরও নির্বাচনের কাজের জন্য ডেপুটেশনে নেওয়া হতে পারে। এছাড়াও কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের বেলেঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের সাতজন বিএলও-কে গণনা ফর্ম ডিজিটাইজেশনের ক্ষেত্রে কাজে অবহেলার অভিযোগে শো-কজ করা হয়েছে।