ভোটার ও পরিষেবার ভারসাম্য ফেরাতে বদল কলকাতায়, ২০০ ওয়ার্ডে ভাগ হচ্ছে শহর?

কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক মানচিত্রে আসতে চলেছে বড়সড় পরিবর্তন। জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আসন্ন পুরভোটের আগে শহরজুড়ে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ‘ডিলিমিটেশন’ প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। সূত্রের খবর, বর্তমানে ১৪৪টি ওয়ার্ডের পরিবর্তে এই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২০০ করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার।

কেন এই বড় সিদ্ধান্ত? সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যার ব্যাপক বৈষম্য নিয়ে সরব হয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। অনেক ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় নাগরিক পরিষেবা প্রদানে হিমশিম খাচ্ছে পুরসভা। এই ভারসাম্য ফেরাতেই ডিলিমিটেশনের পথে হাঁটছে রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।

কীভাবে কাজ চলছে? মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই পুরসভার সার্ভেয়ার এবং আইন বিভাগ কাজ শুরু করেছে। নতুন পরিকল্পনায় প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ হাজার ভোটার রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু ভোটার সংখ্যা নয়, এলাকার আয়তন, বাড়িঘরের সংখ্যা এবং নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অসমতার খতিয়ান: বর্তমানে কলকাতার ওয়ার্ডগুলির মধ্যে বিপুল ফারাক রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ:

  • ৮৫ হাজারের বেশি ভোটার: ৬৬ নম্বর ওয়ার্ড।

  • ৫৬ হাজার ভোটার: ৫৮ নম্বর ওয়ার্ড।

  • ৪৫ হাজার ভোটার: ১০৯ নম্বর ওয়ার্ড।

  • মাত্র ১৪ হাজার ভোটার: ৭০ নম্বর ওয়ার্ড। এই বিশাল অসমতা দূর করতেই নতুন করে ওয়ার্ড বিভাজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকাঠামো ও নতুন চ্যালেঞ্জ: ওয়ার্ড সংখ্যা ২০০-র কাছাকাছি পৌঁছালে পুরসভার প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসবে। নতুন ওয়ার্ড অফিস ও পুর-স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির পাশাপাশি বরোর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে এই পরিবর্তনের ফলে পুরসভার অধিবেশন কক্ষে কাউন্সিলরদের বসার জায়গার সংস্থান কীভাবে হবে, তা নিয়েও ইতিমধ্যে অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে শেষবার কলকাতা পুরসভার পরিধি বাড়লে নতুন তিনটি ওয়ার্ড যুক্ত হয়েছিল। তবে এবার শহরজুড়ে যে ব্যাপক পুনর্বিন্যাসের তোড়জোড় শুরু হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় তৈরি হবে।