ভুটানের জলে ভাসছে আলিপুরদুয়ারের চা বাগান! নদী বাঁধ ভেঙে ধুয়ে গেল আড়াইশো হেক্টর চা গাছ, দিশেহারা হাজারো শ্রমিক

গত সপ্তাহের টানা ১২ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ভুটান থেকে হু হু করে জল নামার ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার একের পর এক চা বাগান। বন্যার তোড়ে চা বাগান রক্ষাকারী নদী বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় জেলার অন্তত ১০টি চা বাগানের অবস্থা করুণ।
সুভাষিণী চা বাগানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি
আলিপুরদুয়ারের ৬৪টি চা বাগানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে হাসিমারার সুভাষিণী চা বাগান।
ব্যাপক ধ্বংসলীলা: রবিবার সকাল ৭টা নাগাদ সুভাষিণী চা বাগানের নদী বাঁধ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এর ফলে বাগানে জল ঢুকতে শুরু করে এবং প্রায় আড়াইশো হেক্টর চা গাছ ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়।
শ্রমিকদের দুর্দশা: চা গাছ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভেঙে যায় শ্রমিকদের বস্তিও। প্রাণ হাতে নিয়ে বস্তি ছেড়ে শ্রমিকরা অন্যত্র পালিয়ে নিজেদের প্রাণ বাঁচান। ভিটেমাটি সব হারিয়ে এই চা শ্রমিকরা এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছেন।
সুভাষিণী চা বাগানের জুনিয়র ম্যানেজার রঞ্জিত কুমার রায় দ্রুত প্রশাসনিক সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যান্য বাগানেও করুণ দশা
সুভাষিণী চা বাগান ছাড়াও জেলার আরও কয়েকটি চা বাগান—যেমন মেজপাড়া, রায়ডাক এবং তোর্ষা সংলগ্ন বাগানগুলি ভুটানের ধেয়ে আসা জলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই সকল বাগানের কয়েক হাজার বিঘার চা গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
প্রশাসনের আশ্বাস
ক্ষতিগ্রস্ত চা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সভাধিপতি স্নিগ্ধা শৈব জানিয়েছেন, আপাতত ওই সকল চা শ্রমিকদের খাবারের বন্দোবস্ত করেছে জেলা পরিষদ। তিনি আরও জানান, নদী বাঁধ দ্রুত যাতে দেওয়া যায়, সেই বিষয়ে কথাবার্তা চলছে এবং মেরামতির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
তবে সুভাষিনী চা বাগানের বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু হলেও, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যে বিপুল ক্ষতি হলো, তার ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বাগান কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিকরা।