ভারত হতে চলেছে বিশ্বের নতুন ট্রানজিট হাব! ২০২৮-এই শুরু মোদী সরকারের ৭৫ হাজার কোটির গ্রেট নিকোবর প্রকল্প

ভারতের ভূ-কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক মানচিত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে চলেছে কেন্দ্র সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘গ্রেট নিকোবর প্রকল্প’। সমস্ত প্রস্তুতি সেরে প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়নের দোরগোড়ায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০২৮ সাল থেকে এই বিশাল প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে।

প্রকল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দু এই প্রকল্পের প্রধান আকর্ষণ হলো গ্রেট নিকোবরের গালাথিয়া বে-তে নির্মিত হতে চলা ‘কনটেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনাল’। প্রায় ৭৫,০০০ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে এক নতুন কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ থেকে মাত্র ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত হওয়ায় এই টার্মিনালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বিশ্ব কনটেইনার ট্রাফিকের ৫০ শতাংশ এবং তেল বাণিজ্যের ৮০ শতাংশই এই রুট দিয়ে সম্পন্ন হয়।

কেন এই প্রকল্প ভারতের জন্য গেম-চেঞ্জার? এতদিন ভারতীয় পণ্য বা কনটেইনারের ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য সিঙ্গাপুর বা কলম্বোর মতো বিদেশি বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হতো। গালাথিয়া বে টার্মিনাল চালু হলে ভারত নিজেই একটি বিশ্বমানের ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হয়ে উঠবে। এর ফলে:

  • সাশ্রয়: বাণিজ্য ব্যয় ও সময় দুটোই উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।

  • অর্থনীতি: দেশের শিল্পখাতে নতুন গতি আসবে এবং হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

  • পরিকাঠামো: শুধু বন্দর নয়, এই প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক বিমানবন্দর, শিল্পাঞ্চল ও পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

নিরাপত্তা ও পরিবেশের ভারসাম্য ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে রুখতে ভারতের এই কৌশলগত উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে সরকার জানিয়েছে, মোট বনাঞ্চলের মাত্র ১.৮২ শতাংশ জমি এই প্রকল্পের জন্য ব্যবহৃত হবে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং স্থানীয় উপজাতিদের অধিকার রক্ষায় বিশেষ সুরক্ষা কবচ তৈরি করা হয়েছে।

উন্নয়ন বনাম প্রকৃতি গ্রেট নিকোবরের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উন্নয়ন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও, সরকারের দাবি—‘বিকাশ এবং বিরাসত’ (উন্নয়ন ও ঐতিহ্য)-এর মেলবন্ধনে এই প্রকল্প পরিচালিত হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সাগরমালা’ প্রকল্পের অঙ্গ হিসেবে গ্রেট নিকোবর টার্মিনাল ভারতকে বিশ্বের শক্তিশালী সমুদ্রশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হতে চলেছে।