ভারত-রাশিয়া ঐতিহাসিক ‘RELOS’ চুক্তি! একে অপরের দেশে যুদ্ধজাহাজ ও সেনা মোতায়েন; বদলে গেল যুদ্ধের সংজ্ঞা?

ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সম্পর্কে এক অনন্য মাইলফলক যুক্ত হলো। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত রেসিপ্রোকাল এক্সচেঞ্জ অব লজিস্টিক সাপোর্ট (RELOS) চুক্তি কার্যকর হতেই আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই চুক্তির ফলে ভারত ও রাশিয়ার সেনাবাহিনী এখন একে অপরের ভূখণ্ড এবং লজিস্টিক পরিকাঠামো ব্যবহার করতে পারবে।

চুক্তির মূল বিষয়গুলি কী কী?

রাশিয়ার সরকারি তথ্যানুসারে, এই চুক্তির অধীনে দুই দেশ একে অপরের ভূখণ্ডে নির্দিষ্ট পরিমাণ সামরিক শক্তি মোতায়েন করতে পারবে:

  • সেনা সংখ্যা: সর্বোচ্চ ৩,০০০ জন সামরিক সদস্য।

  • আকাশপথ: ১০টি পর্যন্ত সামরিক বিমান।

  • জলপথ: ৫টি পর্যন্ত যুদ্ধজাহাজ। এই চুক্তিটি প্রাথমিকভাবে ৫ বছরের জন্য বৈধ এবং প্রয়োজনে আরও ৫ বছর বাড়ানো যাবে।

কেন এই ‘RELOS’ চুক্তি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এতদিন ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া হতো, কিন্তু একে অপরের দেশে দীর্ঘমেয়াদী অবস্থানের সুযোগ ছিল সীমিত। এখন থেকে: ১. যৌথ অপারেশন: মানবিক সাহায্য, প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা এবং যৌথ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে দুই দেশ সরাসরি একে অপরের পরিকাঠামো ব্যবহার করতে পারবে। ২. লজিস্টিক সাপোর্ট: প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং অপারেশনাল সাপোর্টের বিস্তারিত নিয়মাবলী এই চুক্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে। ৩. কৌশলগত বার্তা: বিশ্বের বর্তমান জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই চুক্তি প্রমাণ করে যে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও রাশিয়ার মতো পুরনো ও নির্ভরযোগ্য বন্ধুকে ভারত কখনোই অবহেলা করবে না।

পুরনো বন্ধুত্বের নতুন রূপ

এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম থেকে শুরু করে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র—ভারত সবসময় রাশিয়ার ওপর ভরসা রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চুক্তির ফলে শুধু অস্ত্র কেনা-বেচা নয়, বরং দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে আস্থার এক নতুন স্তর তৈরি হবে। এটি চীনের আধিপত্য রুখতে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখতে ভারতের জন্য এক বড় হাতিয়ার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy