দীর্ঘদিনের ‘রোটি-বেটি’র সম্পর্কে কি এবার কড়া পাহারার ছায়া? ভারত ও নেপালের মধ্যেকার উন্মুক্ত সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘ কয়েক দশকের ঐতিহ্যে বড়সড় বদল আনতে চলেছে কাঠমান্ডু। নেপাল সরকারের সাম্প্রতিকতম নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে বৈধ বিশেষ পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো ভারতীয় নাগরিক নেপালের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারবেন না। দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উত্তেজনার মাঝে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
হঠাৎ কেন এই কড়াকড়ি? নেপাল প্রশাসনের দাবি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে এবং চোরাচালান ও সীমান্ত পারের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতদিন পর্যন্ত ভারতীয়রা কোনো বিশেষ নথি ছাড়াই নেপালের সীমান্ত পারাপার করতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়মে এখন থেকে পাসপোর্ট বা ভোটার আইডি কার্ডের মতো নির্দিষ্ট সরকারি পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য: বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিককালে লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরা নিয়ে ভারত-নেপাল সম্পর্কের যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, এই নতুন নিয়ম তারই প্রতিফলন। নেপাল সরকারের এই পদক্ষেপে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে অবাধ যাতায়াতে বড়সড় বাধা তৈরি হতে পারে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে সীমান্ত সংলগ্ন ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনে।
পর্যটকদের জন্য বড় আপডেট: যারা সড়কপথে বা আকাশপথে নেপাল ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা:
শুধুমাত্র আধার কার্ড দিয়ে প্রবেশে জটিলতা তৈরি হতে পারে, তাই সাথে বৈধ ভোটার কার্ড (Voter ID) বা পাসপোর্ট রাখা জরুরি।
সীমান্ত চেকপোস্টে পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পর তবেই মিলবে প্রবেশের অনুমতি।
নেপালে কর্মরত ভারতীয়দের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের থেকে বিশেষ পারমিট নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।
ভারতের প্রতিক্রিয়া কী? দিল্লির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, সাউথ ব্লক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। উন্মুক্ত সীমান্ত দুই দেশের সাধারণ মানুষের অন্যতম বড় সুযোগ ছিল, যা এখন বড়সড় আইনি গেরোয় বন্দি হতে চলেছে।
আপনি কি শীঘ্রই নেপাল যাওয়ার কথা ভাবছেন? তবে ব্যাগ গোছানোর আগে অবশ্যই নিজের পরিচয়পত্রটি মিলিয়ে নিন।





