টাটা গোষ্ঠীর অধীনে আসার পর থেকেই এয়ার ইন্ডিয়াকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু এবার যে কঠোর পদক্ষেপ নিল কর্তৃপক্ষ, তাতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে কর্পোরেট মহলে। গত তিন বছরে নিয়মভঙ্গ ও দুর্নীতির অভিযোগে ১০০০-এরও বেশি কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে এই বিমান সংস্থা। সংস্থার সিইও ক্যাম্পবেল উইলসনের সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় কর্মীদের এই গণছাঁটাইয়ের আসল কারণ সামনে এসেছে।
সংস্থার এক টাউনহল মিটিংয়ে সিইও ক্যাম্পবেল উইলসন স্পষ্ট জানান, শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। তাঁর কথায়, “কেউ দেখছে না ভেবেও সঠিক আচরণ করা প্রত্যেক কর্মীর নৈতিক কর্তব্য।” জানা গেছে, বরখাস্ত হওয়া কর্মীদের বিরুদ্ধে বিমান থেকে জিনিসপত্র পাচার, অবৈধভাবে অতিরিক্ত লাগেজ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া এবং ‘এমপ্লয়ি লেজার ট্র্যাভেল’ (ELT) স্কিমের অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গত মার্চ মাসেই ৪০০০-এর বেশি কর্মীর বিরুদ্ধে এই ট্র্যাভেল স্কিমে দুর্নীতির ইঙ্গিত মিলেছে, যা সংস্থার অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে এসেছে।
বর্তমানে প্রায় ২৪,০০০ কর্মী থাকা এই সংস্থাটি তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি। লোকসভায় পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে নামমাত্র লাভে থাকলেও, পরের বছর থেকেই ক্ষতির বহর বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এয়ার ইন্ডিয়ার লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৮৩২ কোটি টাকা। এখানেই শেষ নয়, ২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ ২২,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আর্থিক পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্মীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর মতো একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এয়ারলাইন্স ব্যবসার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছেন সিইও। মূলত অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফেরানো এবং খরচ কমিয়ে সংস্থাকে পুনরায় লাভের মুখ দেখানোটাই এখন টাটাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।





