ভারতের হাতেই হাসিনার ভাগ্য? বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্তে জট, কী পদক্ষেপ নেবে নয়াদিল্লি?

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায়ের পরই এবার তাঁকে ফেরত চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে চিঠি দিল নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে এক প্রতিনিধি মারফত এই প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত কূটনৈতিক বার্তা (চিঠি) পাঠিয়েছে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক।
বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নয়াদিল্লিকে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ১৭ নভেম্বর ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে’ দোষী সাব্যস্ত করে ট্রাইব্যুনাল এই মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়।
হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও ভারতে অবস্থান
গত বছর ৫ আগস্ট কোটা সংস্কার আন্দোলনের তীব্রতার মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। তার তিন দিন পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দেশ ছাড়ার পর থেকেই শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন।
বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। ওই মামলাতেই ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার দফতরের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে কোটা আন্দোলন দমনের সময় বাংলাদেশে প্রায় ১,৪০০ জনকে হত্যা করা হয়েছিল।
বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং কূটনৈতিক জট
উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বরেও শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে একটি কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সেসময় ভারত সরকার বার্তার প্রাপ্তিস্বীকার করলেও তার উত্তর কী ছিল, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
এই প্রসঙ্গে মনে রাখা জরুরি যে, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছিলেন স্বয়ং শেখ হাসিনাই। চুক্তির শর্ত মোতাবেক, সংশ্লিষ্ট দেশের অপরাধীকে অন্য দেশ তাদের হাতে তুলে দেবে। তবে এই চুক্তিতে একটি ‘ব্যতিক্রম’ শর্তও রয়েছে—যদি অভিযুক্তের অপরাধ রাজনৈতিক কারণে ঘটে থাকে, তবে এই প্রত্যর্পণ চুক্তি কার্যকর হবে না।
বর্তমানে, ইউনূস সরকারের এই নতুন প্রত্যর্পণ অনুরোধ কূটনৈতিকভাবে ভারতকে এক জটিল পরিস্থিতিতে ফেলল। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে নয়াদিল্লি কী পদক্ষেপ নেয়, তার দিকে তাকিয়ে আছে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহল।