হোমওয়ার্ক না করায় শিক্ষিকার মারের হুমকি! ক্লাসরুমে ঢুলেই হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল ৬ বছরের শিশু

শিক্ষককে বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর, যিনি ছাত্রছাত্রীদের কাছে ভয় নয়, সবসময় ভরসার প্রতীক হয়ে উঠবেন। কিন্তু সেই শিক্ষকের ওপর আস্থাই যদি এক খুদে শিশুর অকাল মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে তার চেয়ে মর্মান্তিক আর কিছু হতে পারে না। অন্ধপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের একটি নামী কিন্ডারগার্টেন স্কুলে হোমওয়ার্ক না করার অপরাধে এক শিক্ষিকার তীব্র ধমক ও মারের ভয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে এক ৬ বছরের শিশু। ক্লাসরুমের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, যা দেখে শিউরে উঠছেন নেটনাগরিকরা।

ঠিক কী ঘটেছিল ক্লাসরুমে?
ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ‘ডেইলিল্যান্ট’) দেখা গিয়েছে, বিশাখাপত্তনমের লিটল গার্ডেন স্কুলের লোয়ার কেজির ক্লাসরুমে বসে খাতা দেখছেন এক শিক্ষিকা। একে একে ছোট ছোট শিশুরা তাদের হোমওয়ার্ক দেখাতে শিক্ষিকার সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে। মৃত ওই শিশুর নাম প্রণয় তেজ, বয়স মাত্র ছ’বছর।

প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছে, প্রণয় সেদিন তার হোমওয়ার্ক করে যেতে পারেনি। ক্লাসে এসে সে যখন বুঝতে পারে যে শিক্ষিকা খাতা দেখছেন, তখন থেকেই সে ভয়ে সিঁটিয়ে যায়। শিক্ষিকা খাতা দেখতে চাইলে আতঙ্কে শিশুটি কাঁদতে ও কাশতে শুরু করে। অভিযোগ, সেই সময় শিশুটির ওপর চড়াও হন শিক্ষিকা এবং তাকে চরম ধমক দেন। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, শিক্ষিকার সেই তীব্র ধমক ও ভয়ের চোটে শিশুটি হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং সোজা ওই শিক্ষিকার গায়ের ওপরই অচেতন হয়ে লুটিয়ে পড়ে।

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই শেষ সব
তাত্ক্ষণিকভাবে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই প্রণয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় ভেঙে পড়েছে শিশুটির পরিবার। ক্লাসরুমের সেই সিসিটিভি ফুটেজ হাতে পাওয়ার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রণয়ের বাবা-মা ও পরিবারের লোকজন। তাঁরা সরাসরি ওই স্কুলে গিয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখান এবং শিক্ষিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ক্লাসরুমের ভেতরে সামান্য শাসনের নামে এহেন মানসিক ও শারীরিক ত্রাস কি কেড়ে নেবে ছোট ছোট প্রাণগুলো? এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে শোকস্তব্ধ অভিভাবক মহলে।