ভক্তি ও বিশ্বাসের মহামিলন! ২৭শে জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে জয় পার্বতী ব্রত, জানুন আপনার সৌভাগ্য লাভের সহজ উপায়!

সনাতন ধর্মে প্রতিটি ব্রত ও উপবাসের রয়েছে নিজস্ব আধ্যাত্মিক গুরুত্ব। তেমনই এক বিশেষ ব্রত হলো ‘জয়া পার্বতী ব্রত’। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে শুরু হওয়া এই ব্রত বিবাহিত এবং অবিবাহিত উভয় নারীদের জীবনে পরম আশীর্বাদ বয়ে আনে। ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীকে তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পাঁচ দিনব্যাপী এই ব্রত পালন করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ব্রতের প্রভাবে বিবাহিত নারীরা সুখী ও দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য জীবনের বর পান এবং অবিবাহিত নারীরা লাভ করেন কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গী।
জয়া পার্বতী ব্রতের তিথি ও সময়:
দৃক পঞ্চাঙ্গ অনুসারে, ২০২৬ সালে আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথি ২৬শে জুলাই দুপুর ১:৫৭ মিনিট থেকে শুরু হয়ে ২৭শে জুলাই বিকেল ৪:১৪ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। সেই অনুযায়ী, জয়া পার্বতী ব্রত আগামী ২৭শে জুলাই, সোমবার থেকে শুরু হবে এবং ১লা আগস্ট, শনিবার পর্যন্ত চলবে। পূজার প্রদোষ কালের শুভ সময়টি ২৭শে জুলাই সন্ধ্যা ৭:১৫ মিনিট থেকে শুরু করে রাত ৯:২০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
পূজা পদ্ধতি ও নিয়মাবলি:
ব্রতের দিন ভোরে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করে উপবাসের সংকল্প নিতে হয়। একটি বেদীতে লাল কাপড় বিছিয়ে দেবী পার্বতীর প্রতিমা স্থাপন করুন। দেবীকে লাল ওড়না ও সুহাগের সামগ্রী নিবেদন করা এই ব্রতের অন্যতম প্রধান অঙ্গ। এরপর ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে ভক্তিভরে ক্ষীর নিবেদন করুন। সবশেষে জয়া পার্বতী ব্রত কথা পাঠ করে দেবী পার্বতীর আরতি সম্পন্ন করতে হয়।
ব্রতের তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য:
পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, দেবী পার্বতী স্বয়ং ভগবান শিবকে পতি হিসেবে পাওয়ার জন্য এই কঠিন ব্রত পালন করেছিলেন। তাই এই ব্রতের প্রভাবে নারীদের সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায় এবং দাম্পত্য জীবনের সমস্ত বাধা দূর হয়। জ্যোতিষশাস্ত্রের মতে, এই ব্রত পালনের মাধ্যমে জন্মকুণ্ডলীর বিভিন্ন গ্রহের অশুভ প্রভাবও প্রশমিত হয়। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, নারীদের প্রায় ৫, ৭, ৯, ১১ বা ২০ বছর ধরে এই ব্রত পালন করা উচিত। আষাঢ়ের শুক্লপক্ষ থেকে শুরু করে শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণপক্ষের তৃতীয় দিন পর্যন্ত চলে এই ব্রত। নিষ্ঠাভরে এই ব্রত পালন করলে মা পার্বতী প্রসন্ন হন এবং ভক্তের মনোবাসনা পূর্ণ করেন। এই দিনটিতে শুদ্ধাচার ও সংযম বজায় রাখাই প্রকৃত উপাসনা।