ভারতের ইতিহাসে প্রথম! ইঞ্জিনিয়ারিং বায়োলজি কোর্সে বিপ্লব আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার

ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী (স্বতন্ত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডঃ জিতেন্দ্র সিং আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের প্রথম ‘ইঞ্জিনিয়ারিং বায়োলজি’ কোর্স চালুর ঘোষণা করেছেন। এই নতুন শিক্ষাক্রমটি কেবলমাত্র একাডেমিক কোনো কোর্স নয়, বরং এটি ভারতের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিজ্ঞান, প্রকৌশল এবং জৈবপ্রযুক্তির এক অনন্য মেলবন্ধন হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে।
নীতি আয়োগের এক অনুষ্ঠানে এই যুগান্তকারী ঘোষণা করেন ডঃ সিং। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সাথে তাল মেলাতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। আইআইটি (IIT) এবং আইআইএসসি (IISc)-এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যেই সরকারের কাছে মেডিকেল স্কুল স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে, যা ভারতের স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণার পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জৈব-অর্থনীতি (Bio-economy) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, যার লক্ষ্যমাত্রা ২.৬ ট্রিলিয়ন ডলার।
ডঃ জিতেন্দ্র সিং-এর মতে, ভবিষ্যতে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শাস্ত্রের সীমারেখা মুছে যাবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়াররা ভবিষ্যতে আল্ট্রাসাউন্ড বা উন্নত এমআরআই মেশিনের ক্ষেত্রে রেডিওলজিস্টদের সঙ্গে সমানতালে কাজ করবেন। কোভিডের সময় ভারত যেভাবে বিশ্বের প্রথম ডিএনএ ভ্যাকসিন তৈরি করে এবং বিশ্বের বহু দেশে জীবনদায়ী টিকা সরবরাহ করে নিজের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে, তা এখন বিশ্বস্বীকৃত। সেই সাফল্যের পথ ধরেই সরকার এখন সিন্থেটিক বায়োলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক জৈব গবেষণা এবং জৈব-উৎপাদনের (Bio-manufacturing) ওপর জোর দিচ্ছে।
এই নতুন উদ্যোগের ফলে স্বাস্থ্য, শিল্প ও কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। উন্নততর ওষুধ তৈরি থেকে শুরু করে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন এবং টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ইঞ্জিনিয়ারিং বায়োলজি মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করবে। ডঃ সিং জোর দিয়ে বলেছেন, ভারত এখন শুধুমাত্র গবেষণাগারের মধ্যে বিজ্ঞানকে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বরং বৈজ্ঞানিক গবেষণার সুফল যেন সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল করতে পারে, সেদিকেই সরকারের নজর।
এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিল্প সংস্থা, বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান এবং গবেষকদের মধ্যে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলে গবেষণার ফলাফলগুলো দ্রুত ল্যাব থেকে বাজারে আসবে। দেশীয় জৈব-উৎপাদন এবং প্রতিভা বিকাশে ভারত এখন প্রস্তুত। পরিবেশ সুরক্ষা থেকে খাদ্য নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইঞ্জিনিয়ারিং বায়োলজির প্রয়োগ ভারতকে বিশ্বমঞ্চে এক শক্তিশালী শক্তিতে পরিণত করবে। সরকারের এই দূরদর্শী পদক্ষেপ আগামী প্রজন্মের প্রকৌশলী এবং বিজ্ঞানীদের জন্য এক নতুন কর্মসংস্থানের এবং উদ্ভাবনের দুয়ার খুলে দেবে, যা ভারতকে ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার স্বপ্নপূরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।