ব্রহ্মপুত্রের ওপর চিনের বাঁধ নির্মাণ, ভারত ও বাংলাদেশের উদ্বেগ নিয়ে যা বললো বেজিং

তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে চলেছে চিন, যা ভারত ও বাংলাদেশের মতো নিম্ন অববাহিকার দেশগুলোর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে, বেজিং এই আশঙ্কা সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়ে দাবি করেছে যে, এই প্রকল্প ভারত বা বাংলাদেশের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

চিনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের কাছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC)-র কাছে অবস্থিত নিয়িংচি শহরে এই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করার ঘোষণা করেছেন। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা এবং দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা। এই বাঁধ থেকে বছরে ৩০০ বিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টারও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ

চিনের এই ঘোষণার পর ভারতের পক্ষ থেকে কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। ভারত এবং বাংলাদেশের আশঙ্কা হলো, এই ধরনের একটি বিশাল বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহে পরিবর্তন আসতে পারে, যার মারাত্মক পরিবেশগত এবং অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে, জলপ্রবাহের ওপর চিনের নিয়ন্ত্রণ ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে বন্যা বা খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু এই বাঁধকে একটি “জল বোমা” হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এটিকে সামরিক হুমকি থেকেও বড় সমস্যা বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি ৮ জুলাই পিটিআই ভিডিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “চিনকে বিশ্বাস করা যায় না। কেউ জানে না তারা কী করতে পারে।” তিনি আরও বলেন, যেহেতু চিন কোনো আন্তর্জাতিক জল চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়, তাই তাদের ওপর আন্তর্জাতিক নিয়ম মানার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এই কারণেই ভারতের উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

চিনের দাবি, কোনো প্রভাব পড়বে না

ভারত ও বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়ে বুধবার চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, এই প্রকল্পটি “নীচের অঞ্চলগুলিতে কোনও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।” তিনি দাবি করেন যে, চিন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে এই প্রকল্পটি সম্পন্ন করছে।

তবে, বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাঁধের আকার ও পরিধি এমন যে, বেজিং যদি কোনো কারণে হঠাৎ করে অতিরিক্ত জল ছেড়ে দেয়, তবে তা ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে ভয়াবহ বন্যার কারণ হতে পারে। এই সম্ভাবনা ভারত সরকারের জন্য একটি গুরুতর কৌশলগত এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। চিন যতই আশ্বাস দিক না কেন, ব্রহ্মপুত্রের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নদীর উপর এককভাবে এত বড় প্রকল্প ভারতের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।