কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) কি এবার মানবজাতির জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে? আমেরিকান এআই স্টার্টআপ ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর তৈরি নতুন মডেল ‘ক্লাউড মিথোস’ (Claude Mythos) নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ভারতের ব্যাঙ্কিং এবং আর্থিক ব্যবস্থার ওপর এই এআই-এর সম্ভাব্য বিধ্বংসী প্রভাব মোকাবিলা করতে বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠকে বসেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং আইটি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) এবং অন্যান্য প্রধান ব্যাঙ্কগুলির কর্তাদের সঙ্গে এই বৈঠকে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
কেন ‘মিথোস’ এত বিপজ্জনক?
অ্যানথ্রোপিক কোম্পানি নিজেই স্বীকার করেছে যে, মিথোস এতটাই শক্তিশালী যে এটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়। এটি এমন সব সাইবার সিকিউরিটি দুর্বলতা শনাক্ত করতে সক্ষম যা গত ২৭ বছর ধরে মানুষের নজর এড়িয়ে গেছে। বড় বড় অপারেটিং সিস্টেম এবং ওয়েব ব্রাউজারের ত্রুটি খুঁজে বের করে এটি নিমেষের মধ্যে ব্যাঙ্কিং সার্ভারে প্রবেশ করতে পারে। সহজ কথায়, ল্যাপটপ আছে এমন যে কেউ এই এআই ব্যবহার করে বড়সড় হ্যাকিং চালাতে সক্ষম।
ভারতের প্রস্তুতি:
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সতর্ক করেছেন যে, মিথোস থেকে আসা হুমকি ‘অভূতপূর্ব’। তিনি ব্যাঙ্কগুলিকে অবিলম্বে তাদের আইটি সিস্টেম আপগ্রেড করার নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রক জানিয়েছে:
ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন (IBA)-কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার মতো একটি শক্তিশালী পরিকাঠামো তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
Indian-CERT এবং ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে যাতে কোনো আক্রমণ হওয়ার আগেই তা শনাক্ত করা যায়।
গ্রাহকদের গচ্ছিত আমানত এবং ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ:
শুধুমাত্র ভারত নয়, মার্কিন সরকারও ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাঙ্কগুলির নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই এই এআই-এর মোকাবিলা করতে বিশেষ পরিকল্পনা শুরু করেছে। যদিও কোম্পানিটি মাত্র ৪০টি সংস্থাকে এর অ্যাক্সেস দিয়েছিল, তবে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে একদল হ্যাকার ইতিমধ্যেই বেআইনিভাবে মিথোস-এ প্রবেশাধিকার পেয়ে গেছে, যা দুশ্চিন্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।





