সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর (SIR) মামলার শুনানি চলাকালীন এক নজিরবিহীন নাটকীয় মুহূর্তের সাক্ষী থাকল দেশের শীর্ষ আদালত। একদিকে যেমন ৯২ শতাংশের রেকর্ড ভোটদান নিয়ে খুশি প্রকাশ করলেন বিচারপতিরা, অন্যদিকে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কেন্দ্রের সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতার বাকযুদ্ধ ও সৌজন্য বিনিময় ঘিরে তৈরি হল সরগরম পরিবেশ।
নৈশভোজের আমন্ত্রণ ও বিচারপতির রসিকতা:
শুনানি চলাকালীন হঠাৎই মেজাজ বদলে রাজ্যের আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতাকে আগামী ৪ মে (ভোটের ফল প্রকাশের দিন) নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান। এই সৌজন্য বিনিময় দেখে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী কিছুটা রসিকতার সুরেই মন্তব্য করেন, “উনি (তুষার মেহতা) যদি আগে কলকাতায় আসতেন, তবে সেই (আপ্যায়নের) দায়িত্ব আমারই থাকত।”
৯২ শতাংশ ভোটদান ও ‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ’:
শুনানির এক পর্যায়ে কেন্দ্রের সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা জানান, প্রথম দফার ভোটে ৯২ শতাংশ ভোট পড়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছে। এই ভোটদানের হারে সন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “একজন ভারতীয় হিসেবে রেকর্ড ভোটদানের হার দেখে আমি গর্বিত।” ঠিক তখনই রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর একটি মন্তব্য শোরগোল ফেলে দেয়। তিনি বলেন, “রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়।” তবে এবার পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফিরে ভোট দেওয়া এবং বড়সড় কোনও হিংসা না হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে আদালত।
নাম নিষ্পত্তি ও এনআইএ-র চার্জশিট:
এদিন তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন যে, ২৭ লক্ষ আবেদনের মধ্যে মাত্র ১৩৬টির নিষ্পত্তি হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে বিচারপতি সূর্য কান্ত তাঁকে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ (NIA)-কে চার্জশিট দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সব মিলিয়ে ভোটের ফল প্রকাশের আগের এই শুনানি আইনি ও রাজনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে রইল।





