‘খামেনি বংশ নির্মূল করব, শুধু বাইডেনের সবুজ সঙ্কেতের অপেক্ষা!’ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুঙ্কার ইজরায়েলের

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এবার আরও উত্তপ্ত। আমেরিকা একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও আলোচনার টেবিলে বসতে নারাজ ইরান। এই অচলাবস্থার মাঝেই বিস্ফোরক মন্তব্য করে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিলেন ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাৎজ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ এবং চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্য আইডিএফ (IDF) পুরোপুরি প্রস্তুত, এখন শুধু হোয়াইট হাউসের অনুমতির অপেক্ষা।

ইজরায়েলের হুঙ্কার ও খামেনি বংশ নির্মূলের লক্ষ্য:
বৃহস্পতিবার একটি নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে ইজরায়েল কাৎজ দাবি করেন, ইরানের আকাশসীমা এখন অরক্ষিত এবং তাদের সমস্ত কৌশলগত স্থাপনা ইজরায়েলি হামলার নাগালে রয়েছে। তাঁর কথায়, “ইরানের নেতারা এখন টানেলে লুকিয়ে আছেন। খামেনি বংশকে নির্মূল করার জন্য আইডিএফ এখন আমেরিকার সবুজ সঙ্কেতের অপেক্ষায়।” তিনি আরও যোগ করেন যে, পরবর্তী হামলা হবে “মারাত্মক ও বেদনাদায়ক”, যা ইরানের ভিত্তি নাড়িয়ে দেবে। কাৎজের অভিযোগ, ইরান বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়ানোর ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করছে এবং দেশের জনগণের ওপর অভ্যন্তরীণ দমনপীড়ন চালাচ্ছে।

পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান:
এদিকে আমেরিকার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতে তিনি পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের পক্ষপাতী নন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “পরমাণু অস্ত্র কারোরই ব্যবহার করা উচিত নয়।” তবে ইরানকে চাপে রাখতে তিনি ভিন্ন কৌশল নিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালীর ওপর আমেরিকার “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” রয়েছে এবং ইরানকে একটি স্থায়ী চুক্তিতে বাধ্য করতেই ইচ্ছাকৃতভাবে এই পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আমেরিকার কাছে পর্যাপ্ত তেলের জোগান রয়েছে এবং তারা রাশিয়া বা সৌদি আরবের চেয়েও বেশি তেল উৎপাদন করছে।

ঐক্যের বার্তা ইরানের:
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবং ইজরায়েলি নেতৃত্ব ইরানের অভ্যন্তরীণ শাসনে ফাটল ধরার যে দাবি করেছে, তাকে সরাসরি উডিয়ে দিয়েছে তেহরান। এক্স (X) প্ল্যাটফর্মে ইরান সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, দেশে কোনো ‘কট্টরপন্থী’ বা ‘মধ্যপন্থী’ বিভেদ নেই। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একযোগে বার্তা দিয়েছেন যে, তারা ঐক্যবদ্ধ এবং আমেরিকার উস্কানিমূলক দাবি ভিত্তিহীন। সব মিলিয়ে, একদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি আর অন্যদিকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ— এই দুইয়ের সাঁড়াশি আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন খাদের কিনারায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy