বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় এক বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল গোটা রাজ্য। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৫২টি আসনে ভোট পড়েছে প্রায় ৯১.৯১ শতাংশ। শুধু সাধারণ মানুষই নন, গণতন্ত্রের এই মহোৎসবে সামিল হতে বুথমুখী হয়েছিলেন রুপোলি পর্দার তারকারাও। তবে সমস্ত লাইমলাইটের মাঝেও মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে নিজের ‘মাটির কাছাকাছি’ ভাবমূর্তি বজায় রেখে নজর কাড়লেন বিশ্বখ্যাত গায়ক অরিজিৎ সিং।
সাধারণ পোশাকে অরিজিৎ:
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের একটি বুথে স্ত্রী কোয়েল রায়ের সঙ্গে ভোট দিতে আসেন অরিজিৎ সিং। পরনে অতি সাধারণ পোশাক, চোখে চশমা আর মুখে সেই চিরচেনা অমলিন হাসি। কোনো বাড়তি নিরাপত্তা বা ভিআইপি আড়ম্বর নয়, বরং একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন গায়ক। বুথে ঢোকার সময় উপস্থিত পুলিশকর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করতেও দেখা যায় তাঁকে।
Arijit Singh casted his vote at his hometown Murshidadbad .
Man lives simple life even after being most famous singer…pic.twitter.com/bNc4zr2y8l— closed account🫂 (@ASFAN_MAKKAR) April 23, 2026
রাজনীতিতে আসার জল্পনা ও রসিকতা:
ভোট দিয়ে বেরোনোর সময় সাংবাদিকরা তাঁর কাছে কোনো বিশেষ ‘বার্তা’ চাইলে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই মজার ছলে উত্তর দেন অরিজিৎ। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, “এখন ভোট দিতে এসে কী বার্তা দেব? লোকে ভাববে আমি নিজেই রাজনীতিতে নেমে পড়েছি!” আঙুলে ভোটের কালি দেখানোর অনুরোধ এলে রসিকতা করে বলেন, “ভোট তো দিয়েই ফেলেছি—এখন কি কালি লাগানো আঙুলটাও দেখাতে হবে?” তাঁর এই বুদ্ধিদীপ্ত ও সাবলীল ব্যক্তিত্ব সেখানে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে।
সপরিবারে ভোটদান:
অরিজিতের আসার কিছু আগেই ওই একই বুথে ভোট দিয়ে যান তাঁর বাবা সুরিন্দর সিং। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “সবকিছু খুব সুন্দরভাবে হচ্ছে। কোথাও কোনো সমস্যা নেই।” গায়ক বর্তমানে তাঁর প্লেব্যাক কেরিয়ার থেকে বিরতি নিলেও স্বাধীনভাবে মিউজিক চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। মঞ্চের আলো আর হাজার হাজার ভক্তের উন্মাদনার বাইরে জিয়াগঞ্জের ঘরের ছেলের এই সাধারণ জীবনযাপন আবারও প্রমাণ করল কেন তিনি আপামর জনগণের এত প্রিয়।





