ব্যাংককের সাফারি পার্কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, সিংহের আক্রমণে মৃত্যু অভিজ্ঞ কর্মীর, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের সাফারি ওয়ার্ল্ডে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার পর্যটকদের সামনেই সিংহের আক্রমণে চিড়িয়াখানার এক অভিজ্ঞ রক্ষীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা সাফারি পার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বন্দি পশুদের মালিকানা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

ঘটনার বিবরণ

ঘটনার দিন চিড়িয়াখানার ওই কর্মী নিয়মিত সিংহদের খাবার দিতে গিয়েছিলেন। বন্যপ্রাণ সুরক্ষা পরিচালক সদুদী পুনপুগডি জানান, গাড়ি থেকে নামতেই ছয়-সাতটি সিংহ তাঁকে ঘিরে ধরে এবং আক্রমণ করে।

প্রত্যক্ষদর্শী চিকিৎসক তাভাতচাই কানচনারিন, যিনি তখন পরিবার নিয়ে পার্কে ঘুরতে গিয়েছিলেন, জানান, “আমি দেখলাম লোকটি খোলা গাড়ি থেকে নেমে পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে আছেন। তখনই ধীরে ধীরে একটি সিংহ এসে তাঁকে চেপে ধরে। আশ্চর্যজনকভাবে, তিনি একবারও চিৎকার করেননি।”

নিরাপত্তা ও নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বন্যপ্রাণী অধিকার সংগঠনগুলো সরব হয়েছে। ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফ্রেন্ডস ফাউন্ডেশন থাইল্যান্ড’-এর এডউইন ভিয়েক বলেন, “মানুষের কাছে বড় হলেও বন্য প্রাণীর আসল স্বভাব যে কোনো সময় প্রকাশ পেতে পারে।”

অন্যদিকে, প্রাণী অধিকার সংগঠন ‘পেটা’ দাবি করেছে, এই ঘটনার জন্য সিংহদের কোনো দোষ নেই, তারা তাদের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি অনুযায়ী আচরণ করেছে। তাই, তাদের অবিলম্বে সাফারি পার্ক থেকে সরিয়ে কোনো অভয়ারণ্যে স্থানান্তর করা উচিত।

চিড়িয়াখানার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মৃত ব্যক্তি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এখানে কাজ করছিলেন এবং তিনি খুবই দয়ালু মানুষ ছিলেন। পার্কের সব সিংহেরই সরকারি লাইসেন্স রয়েছে এবং থাইল্যান্ডে সিংহ পালন বৈধ। চিড়িয়াখানা, প্রজনন কেন্দ্র এবং ব্যক্তিগত মালিকানায় বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৫০০ সিংহ বন্দি রয়েছে।

এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।