ব্যস্ত সকালে চরম ভোগান্তি! কয়লাবোঝাই মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় স্তব্ধ রাজধানীমুখী রেল চলাচল

দিল্লি-গাজিয়াবাদ রেল বিভাগে এক বড়সড় রেল দুর্ঘটনার জেরে চরম যাত্রী ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সাহিবাবাদ রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র প্রায় ৪০০ মিটার দূরে একটি কয়লাবোঝাই মালবাহী ট্রেনের মোট ছয়টি বগি হঠাৎই লাইনচ্যুত হয়ে যায়। গভীর রাতে ঘটা এই তীব্র দুর্ঘটনার কারণে দিল্লি ও গাজিয়াবাদের মতো অত্যন্ত ব্যস্ত রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু আকস্মিক এই রেল বিপর্যয়ের জেরে হাজার হাজার নিত্যযাত্রী চরম অসুবিধায় পড়েছেন। ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) এবং অতিরিক্ত বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (এডিআরএম)-সহ রেলওয়ের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং দ্রুত লাইন পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার গভীর রাত আনুমানিক ২টার দিকে। লাইনচ্যুত হওয়া মালবাহী ট্রেনটির বগিগুলো সম্পূর্ণভাবে কয়লাবোঝাই থাকায় উদ্ধারকাজে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। ভারী ওজন এবং কয়লার স্তূপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলো সরিয়ে ট্র্যাক দ্রুত সচল করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেলওয়ের বিশেষ কারিগরি দল ও শক্তিশালী ক্রেন ঘটনাস্থলে এনে দিনরাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যত দ্রুত সম্ভব রেললাইনটি মেরামত করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে তাঁরা সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করে চলেছেন।

এই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার ফলে রেল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে একাধিক ট্রেনের যাত্রাপথে বড়সড় পরিবর্তন এনেছে, যার ফলে মোট ৫৩টি ট্রেন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২৪টি ট্রেনকে বিকল্প দিল্লি-নয়াদিল্লি রুটে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ১৬টি প্যাসেঞ্জার ট্রেন সম্পূর্ণভাবে বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়াও, ৫টি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের যাত্রা আংশিকভাবে বাতিল করা হয়েছে এবং আনন্দ বিহার টার্মিনালে আসার কথা ছিল এমন কয়েকটি ট্রেনসহ মোট আটটি ট্রেনের চলাচল বিভিন্ন স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ ইএমইউ লোকাল ট্রেন এবং অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে দিল্লি, নয়ডা ও গাজিয়াবাদের মধ্যে যাতায়াত করেন। ট্রেন চলাচল এমন আকস্মিক ও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন রেল স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ট্রেন বাতিল কিংবা দীর্ঘ বিলম্বের খবর জানতে পেরে অনেক দিশাহারা যাত্রীকে বাধ্য হয়ে বাস, মেট্রো কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয়। ভুক্তভোগী যাত্রীদের ক্ষোভ, হঠাত্ রেল পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় তাঁরা অনেকেই সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। দেরিতে পৌঁছানোর কারণে অনেকেরই বেতন কাটা যাওয়া বা কর্মক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রেল প্রশাসন যাত্রীদের নিয়মিত ট্রেনের আপডেট দেখতে এবং ঘর থেকে বেরোনোর আগে বর্তমান স্ট্যাটাস যাচাই করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।