থালাপথী বিজয়ের শেষ ছবিতেই বড় চমক! কোন আইকনিক দৃশ্য নিজেই পরিচালনা করলেন সুপারস্টার?

দক্ষিণী সিনেমার মেগাস্টার থালাপথী বিজয়ের বহুল প্রতীক্ষিত এবং তাঁর কেরিয়ারের অন্তিম চলচ্চিত্র “জন নেতা” (Jana Nayagan / Thalapathy 69) মুক্তি পাওয়ার জন্য একেবারে প্রস্তুত। আগামী ২৩শে জুলাই, ২০২৬ প্রেক্ষাগৃহে ঝড় তুলতে আসছে এই বিগ-বাজেট পলিটিক্যাল অ্যাকশন ড্রামা। পরিচালক এইচ. বিনোথের পরিচালনায় এবং কেভিএন প্রোডাকশনস-এর ব্যানারে নির্মিত এই ছবিটিতে বিজয়ের বিপরীতে প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা হেগড়ে ও মমিতা বাইজু এবং খলনায়কের ভূমিকায় থাকছেন ববি দেওল। ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেছেন জনপ্রিয় সুরকার অনিরুদ্ধ রবিচন্দর। মুক্তির ঠিক প্রাক্কালে ছবিটি নিয়ে উন্মাদনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই সিনেমার পরিচালক এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন, যা নিয়ে গোটা দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এখন জোর শোরগোল শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি এক একান্ত সাক্ষাৎকারে পরিচালক এইচ. বিনোথ সিনেমাটি সম্পর্কে এমন কিছু অজানা তথ্য শেয়ার করেছেন যা ভক্তদের উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিচালক জানিয়েছেন যে, দর্শকদের জন্য এই সিনেমায় এক বিশাল চমক অপেক্ষা করছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ছবিটির পোস্ট-ক্লাইম্যাক্স সিকোয়েন্সটি নিজে হাতে পরিচালনা করেছেন স্বয়ং থালাপথি বিজয়। এই বিশেষ এবং অত্যন্ত রোমাঞ্চকর দৃশ্যটিতে দক্ষিণের নামী পরিচালক লোকেশ কানাগারাজ, অ্যাটলি এবং নেলসন দিলীপকুমারকে একটি বিশেষ ক্যামিও চরিত্রে বিজয়ের চরিত্রকে প্রশ্ন করতে দেখা যাবে। ছবি মুক্তির আগে এই দৃশ্যটিই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিনোথ অকপটে স্বীকার করেছেন যে, এই দৃশ্যটিই পুরো ছবির অন্যতম প্রধান শক্তি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে।

ছবির কাহিনী ও রিমেক বিতর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরিচালক জানান যে, তেলুগু সুপার হিট ছবি ‘ভগবন্ত কেশরী’-র ওপর ভিত্তি করেই এই ছবি তৈরি হয়েছে। তবে এটি সম্পূর্ণ হুবহু কপি নয়। বিনোথের ভাষ্য অনুযায়ী, “‘জন নেতা’ হলো ‘ভগবন্ত কেশরী’-র ৫০ শতাংশ। ছবির প্রথমার্ধে প্রায় ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ২০ শতাংশ রাখা হয়েছে।” তিনি আরও জানান যে প্রথমে তিনি বিজয়ের শেষ ছবির জন্য সম্পূর্ণ আলাদা একটি গম্ভীর চিত্রনাট্য নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু বিজয় নিজে তাঁকে এই রিমেকটি করতে বলেন, কারণ অভিনেতা নারী ক্ষমতায়নের বার্তাটিকে মানুষের কাছে জোরালোভাবে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন।

অনুরুদ্ধ রবিচন্দরের দুর্দান্ত মিউজিক এবং এই স্টার-স্টাডেড কাস্টের উপস্থিতি ছবিটিকে বক্স অফিসে এক ঐতিহাসিক সূচনা এনে দেবে বলেই মনে করছেন ট্রেড অ্যানালিস্টরা। অগ্রিম বুকিংয়ের যা গ্রাফ, তাতে সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। থালাপথী বিজয়ের ভক্তদের কাছে এই ছবি নিছক কোনো বিনোদন নয়, বরং আবেগ এবং নস্ট্যালজিয়ার এক অপূর্ব মিশ্রণ হতে চলেছে।