ব্যবসা করতে হলে টাকা দাও! প্রাণনাশের হুমকি ও তোলাবাজির দায়ে শ্রীঘরে ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর

কলকাতা পুরনিগমের অন্দরে ফের বড়সড় অস্বস্তি। তোলাবাজি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শামস ইকবাল ওরফে অনিলকে। রবিবার গভীর রাতে গার্ডেন রিচ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। স্থানীয় সূত্রের খবর, গ্রেফতার হওয়া এই কাউন্সিলর প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মানুষ হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তাঁকে ইকবালপুর থানার লকআপে রাখা হয়েছে এবং সোমবারই তাঁকে আদালতে পেশ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

লালবাজার সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুন, ২০২৬ তারিখে গার্ডেন রিচ থানায় মহম্মদ শাদাব নামে মেটিয়াবুরুজের এক বাসিন্দা কাউন্সিলর শামস ইকবাল-সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। অভিযোগকারীর বয়ান অনুযায়ী, অভিযুক্তের তালিকায় কাউন্সিলর ছাড়াও মহম্মদ ফারাজ ওরফে বুন এবং ফিরোজ কুরেশি ওরফে চুড়ি ফিরোজের নাম রয়েছে। দায়ের করা এফআইআরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩০৮(৫), ৩৫১(২), ৩(৫) ধারার পাশাপাশি অস্ত্র আইনের ২৫ ও ২৭ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের জুন মাসে। অভিযোগকারীর দাবি, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অভিযুক্তরা এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা চালানোর অছিলায় তাঁর কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা তোলাবাজি করেছে। অভিযোগ, কাউন্সিলরের নাম ভাঙিয়ে এবং তাঁর সহযোগীদের মাধ্যমে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে এই মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, টাকা দেওয়ার পরেও অভিযুক্তদের চাহিদা মেটেনি। অভিযোগকারীকে আরও বড় অঙ্কের টাকার জন্য নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি, অভিযুক্তরা তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র বা রিভলভার দেখিয়েও ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছে বলে এফআইআরে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।

এই গুরুতর অভিযোগ পাওয়ার পরই গার্ডেন রিচ থানার পুলিশ তদন্তে নামে। সমস্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে রবিবার রাতে কাউন্সিলর শামস ইকবালকে গ্রেফতার করা হয়। এই গ্রেফতারির ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়, পুলিশ সূত্রে খবর, এই তোলাবাজি চক্রের সঙ্গে যুক্ত বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ পেতে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ।

পুলিশি জেরায় এই চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের কথায়, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার পাশাপাশি ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ মেনেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় শহরজুড়ে রাজনৈতিক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এখন দেখার, আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে এই কাউন্সিলর নিজেকে কতটা নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন এবং বাকি অভিযুক্তরা কবে পুলিশের জালে ধরা দেয়।