লেবাননে বিশাল সুড়ঙ্গ ধ্বংস ইজরায়েলের! হিজবুল্লাহর পাল্টা হুঁশিয়ারিতে যুদ্ধের দামামা সীমান্তে

দক্ষিণ লেবাননে বড়সড় সামরিক অভিযান চালাল ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। রবিবার দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জৌন গ্রামে হিজবুল্লাহর একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে ইজরায়েলি সেনা। প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ এই সুড়ঙ্গটিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র এবং রকেট লঞ্চার মজুত ছিল বলে দাবি করেছে তেল আভিভ। ইজরায়েলের দাবি, উত্তরের জনবসতিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

মার্কিন চুক্তির পরেই উত্তেজনার পারদ
গত ২৭ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইজরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করে সেখানে লেবানিজ সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ছিল। তবে চুক্তিতে এও স্পষ্ট ছিল যে, ইজরায়েলি বাহিনী নির্দিষ্ট ‘নিরাপত্তা বাফার জোনে’ তাদের উপস্থিতি বজায় রাখতে পারবে। এই চুক্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইজরায়েলি বাহিনীর এই সামরিক পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর শান্তিকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

নেতানিয়াহুর কঠোর বার্তা
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন মধ্যস্থতার চুক্তি সত্ত্বেও ইজরায়েলি বাহিনী তাদের বাফার জোনে অবস্থান করবে। তিনি বলেন, “জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করা এবং আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের অবিচল লক্ষ্য।” অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর নেতা নাইম কাসেম এই নিরাপত্তা চুক্তিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, ইজরায়েলের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহ তাদের সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।

সীমান্তে কি যুদ্ধের মেঘ?
ইজরায়েলি বাহিনী গত ২৮ জুন রাতেও নাবাতিয়ে এলাকায় হিজবুল্লাহর রকেট লঞ্চার এবং আরপিজি বহনকারী যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল। এই ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, সীমান্তে শান্তি ফেরানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আপাতত ব্যর্থ। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে ইতিমধ্যেই লেবাননের প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ইজরায়েলের এই সাম্প্রতিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে ফের এক বিপজ্জনক মোড়ে নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, কূটনৈতিক সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থান কোনো বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের ইঙ্গিত বহন করছে।