ভবানীপুর উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব মিটতেই রাজ্য রাজনীতিতে তুফান তুলে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের দিন বুথে বুথে কারচুপির যে আশঙ্কা বিজেপি করছিল, তাকে ছাপিয়ে এবার সরাসরি ‘বোরখা’ বিতর্ক উস্কে দিলেন তিনি। শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবি, তৃণমূলের হয়ে ভোট দিতে পুরুষরা বোরখা পরে বুথে ঢুকেছে। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের পাড়াতেও হারের মুখ দেখবেন বলে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি অনুযায়ী, ভবানীপুরের হিন্দু অধ্যুষিত বুথগুলোতে এবার রেকর্ড ৯৫ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা বিজেপির জয়ের পথকে পরিষ্কার করে দিয়েছে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, বিজেপি প্রার্থী ভবানীপুরে অন্তত ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতে চলেছেন। তাঁর যুক্তি, হিন্দু ভোট এককাট্টা হওয়াতেই তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে তিনি বলেন, “মমতা দিদি এবার নিজের বুথেই হারবেন। মানুষ দু’হাত তুলে বিজেপিকে আশীর্বাদ করেছেন।”
ভোট পরবর্তী বিশ্লেষণে শুভেন্দু জানান, তৃণমূলের ছাপ্পা ভোটের সমস্ত পরিকল্পনা বিজেপি কর্মীরা ভেস্তে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “ওরা ভেবেছিল পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে ছাপ্পা দেবে, কিন্তু সাধারণ মানুষ ও আমাদের কর্মীরা সেটা হতে দেয়নি। তাই হতাশ হয়ে ওরা পুরুষদের বোরখা পরিয়ে ভুয়ো ভোট দেওয়ার মত মরিয়া চেষ্টা করেছে।” মূলত সংখ্যালঘু এলাকায় এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
এদিকে, শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পরই সরব হয়েছে তৃণমূল শিবির। যদিও সেদিকে ভ্রূক্ষেপ না করে শুভেন্দু মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, নন্দীগ্রামের মতোই ভবানীপুরেও এবার পরাজয় হবে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রীর। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছেও একাধিক অভিযোগ জানানো হয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে। সব মিলিয়ে, ফলপ্রকাশের আগেই ভবানীপুর নিয়ে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে গোটা বাংলায়।





