‘বৃষ্টিতে জল জমলে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন কেন?’ মমতাকে তুলোধোনা করলেন সুকান্ত-অধীর…

গত মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টিতে কার্যত জলের তলায় চলে গেছে কলকাতা। উত্তর থেকে দক্ষিণ, সল্টলেক থেকে নিউ টাউন—সর্বত্রই এক ছবি। শুধু তাই নয়, শহরের বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন। এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ডিভিসি এবং পাঞ্চেত থেকে জল ছাড়ার কারণেই কলকাতা ভাসছে। তিনি আরও বলেন, এখন তাঁর কাছে কলকাতা ছাড়াও বিহার ও উত্তরপ্রদেশের বন্যা সামলানোটা গুরুত্বপূর্ণ।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রকৃতি মানুষের হাতে নেই এবং গতকাল যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা অভাবনীয়। তবে তিনি দাবি করেন, তাঁর সরকার জল জমার সমস্যা অনেকটাই কমিয়েছে। একইসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ফারাক্কার ড্রেজিং না হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে জেলার পুজো উদ্বোধন করার সময় তিনি বলেন, প্রকৃতি তার রোষ দেখাবেই, কিন্তু তাতে পুজোর আনন্দ যেন মাটি না হয়।
মমতার মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন সুকান্ত ও অধীর
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। বিজেপি এবং কংগ্রেস দুই দলই মমতাকে তীব্র কটাক্ষ করেছে।
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘বৃষ্টি হলে জল জমবেই, তার জন্য কাউকে দোষারোপ করা উচিত নয়।’ তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এখন সমস্ত দায় অন্যের উপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। সুকান্ত সিইএসসি-কে নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সিইএসসি-র কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কা তো মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ, তাহলে কেন তিনি তাঁকে দোষারোপ করছেন? সুকান্ত মজুমদারের মতে, অন্যকে দোষারোপ না করে সরকারের উচিত নিজেদের নিকাশি ব্যবস্থা উন্নত করা।
অন্যদিকে, রাজ্য কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা অধীর চৌধুরীও সরকারের নিকাশি ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল জমানায় প্রোমোটার রাজ বেড়ে যাওয়ায় কলকাতার নকশা নষ্ট হয়েছে, যার ফলে জল জমার সমস্যা আরও বেড়েছে।
রাজনৈতিক বাদানুবাদ চলতেই থাকলেও, জমা জল এবং রাস্তায় পড়ে থাকা ছেঁড়া তারের কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। মানুষ এখন শুধু এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার অপেক্ষায়।