বিপদ বাড়ল দেবরাজ চক্রবর্তীর! বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির চাঞ্চল্যকর প্রমাণ

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আইনি ফাঁস ক্রমশ আরও শক্ত হচ্ছে। তোলাবাজি, হুমকি এবং সিন্ডিকেট চালানোর মতো একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর, এবার তাঁর বিরুদ্ধে বারাসাত আদালতে জমা পড়ল দ্বিতীয় চার্জশিট। এই চার্জশিটে বাগুইআটি থানার পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দেবরাজ চক্রবর্তী নিজের প্রভাব খাটিয়ে বাগুইআটি ও বিধাননগর এলাকায় একটি সুসংগঠিত ‘সিন্ডিকেট অর্গানাইজড ক্রাইম’ চালাতেন।
মামলার কেন্দ্রে রয়েছে হাওড়ার লিলুয়ার বাসিন্দা ও লোহা ব্যবসায়ী বিনয় সিংয়ের করা একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। ব্যবসায়ী বিনয় কুমার সিংয়ের দাবি, তিনি ভিআইপি রোডের একটি পরিত্যক্ত বহুতল ভাঙার কাজ করার সময় দেবরাজের শাগরেদরা তাঁর কাছে ১ কোটি টাকা তোলা দাবি করে। সেই দাবির প্রেক্ষিতে তিনি দু’দফায় ৫০ লক্ষ টাকা দিলেও, পরবর্তী সময়ে সেই অঙ্ক আরও বাড়িয়ে ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। ব্যবসায়ী বিনয়ের বয়ান অনুযায়ী, টাকা দিতে দেরি হওয়ার ‘শাস্তি’ হিসেবেই অতিরিক্ত ৭৫ লক্ষ টাকা দাবি করে তাঁকে চূড়ান্ত হেনস্তা করা হয়।
পুলিশের পেশ করা ২৫৬ পাতার এই দ্বিতীয় চার্জশিটে উঠে এসেছে ভয়াবহ সব তথ্য। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে শুধু তোলাবাজি নয়, বরং ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, প্রোমোটারদের চাপ দেওয়া এবং কোটি কোটি টাকার রহস্যজনক লেনদেনের মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গত ১ জুলাই ঝাড়খণ্ডের মুরির এক রিসর্ট থেকে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাঁকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই এই রহস্যের জট খুলতে শুরু করে। গ্রেপ্তারের ৩৫ দিনের মাথায় পেশ করা হয়েছিল প্রথম চার্জশিট, আর এবার দ্বিতীয় চার্জশিট জমা পড়ায় বিধাননগরের প্রাক্তন এই তৃণমূল নেতার অস্বস্তি যে বহুগুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।
তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, দেবরাজ চক্রবর্তী বাগুইআটি-বিধাননগর এলাকাকে কেন্দ্র করে এক বিশাল সিন্ডিকেট সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে প্রোমোটার—কেউই তাঁর এই তোলাবাজির জাল থেকে রেহাই পাননি। রাজনৈতিক প্রভাবকে ঢাল করে কীভাবে একটি আস্ত এলাকা দখল করে অপরাধমূলক কাজকর্ম চালানো হতো, তার প্রতিটি খুঁটিনাটি তথ্য এই চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করেছে পুলিশ। বিচারব্যবস্থায় এই নতুন চার্জশিট জমা পড়ার পর, দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর ভিত্তি আরও জোরালো হলো বলেই মনে করছেন আইনজীবীরা। আগামী দিনে এই মামলার জল কতদূর গড়ায়, তা নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।