নির্বাচনী বৈতরণী পার করে রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতেই নিজেদের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করল ভারতীয় জনতা পার্টি। বীরভূমের অন্যতম সতীপীঠে এবার থেকে অন্য ধর্মাবলম্বী বা ‘বিধর্মীদের’ প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ থেকেই এই বিতর্কিত নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বীরভূম জেলা বরাবরই তার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব এবং সতীপীঠগুলোর জন্য পরিচিত। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সেখানে বিজেপির ক্ষমতা দখলের রেশ কাটতে না কাটতেই এই ধর্মীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা এবং সনাতনী সংস্কৃতিকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তীর্থস্থানগুলোর নিরাপত্তা ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং মন্দিরের নিয়মকানুন আরও কঠোরভাবে পালন করার একটি প্রয়াস মাত্র। তবে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া মাত্রই এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বীরভূমের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহে প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, কট্টরপন্থী শিবিরের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়েছে। বিরোধীরা অবশ্য এই বিষয়টিকে বিজেপির ‘মেরুকরণের রাজনীতি’ হিসেবেই দেখছে।
আজ সকাল থেকেই সতীপীঠের প্রবেশদ্বারে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। নতুন এই নিয়ম নিয়ে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এখন দেখার, এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বীরভূমের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি আগামী দিনে কোন মোড় নেয়।





