বীরভূমের বোলপুরে তুলকালাম, সরকারি আধিকারিককে কলার ধরে মারধরের অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে!

বীরভূমের বোলপুর কৃষক বাজারে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (MSP) ধান কেনা নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলো। ধান কেনার ক্ষেত্রে গড়মিলের অভিযোগ তুলে তৃণমূল নেতার নেতৃত্বে এক সরকারি আধিকারিককে প্রকাশ্যে কলার ধরে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৃষক বাজারে উত্তেজনা ছড়ায় এবং ধান কেনাবেচা বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে।

মারধরের অভিযোগ ও কারণ

 

  • অভিযুক্ত: স্থানীয় রায়পুর-সুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মহিদাপুর গ্রামের তৃণমূল নেতা কাজল মোল্লার নেতৃত্বে সরকারি আধিকারিক জামাল হোসেনকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁকে টেনে হিঁচড়ে দফতর থেকে বের করে আনা হয়।

  • কৃষকদের ক্ষোভ: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একজন চাষির কাছ থেকে একবারে ১৫ কুইন্টাল ধান কেনা যাবে। তবে, চাষিদের অভিযোগ ছিল:

    1. প্রতি কুইন্টালে ৪ কেজি করে ধান বাদ চলে যাচ্ছে।

    2. ১৫ কুইন্টালের বেশি ধান দ্বিতীয় দফায় বিক্রি করতে হলে বাড়তি শ্রমিক দিতে হচ্ছে, যা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে তাঁদের।

  • তৃণমূল নেতার সাফাই: অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা কাজল মোল্লা জানান, “চাষিরা আন্দোলন করছিল। কারণ, ধান কেনার ক্ষেত্রে অনেকটা কেটে নেওয়া হচ্ছিল। একবারে বেশি ধান না-নিলে আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। দু’বার করে ধান গাড়িতে চাপাতে শ্রমিককে বেশি টাকা দিতে হচ্ছে।”

প্রশাসনের বক্তব্য ও পুলিশের ভূমিকা

 

বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকের কৃষি আধিকারিক শেখ জসিমউদ্দিন জানান, “চাষিদের বুঝতে ভুল হয়েছিল। সরকারি নিয়ম বোঝানোর পর সব স্বাভাবিক হয়।”

তবে এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। শান্তিনিকেতন থানার পুলিশের সামনেই একজন সরকারি আধিকারিককে মারধর করা হলেও, উপস্থিত পুলিশ কর্মীরা নীরব দর্শক হয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ। পরে পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, পর্যাপ্ত পুলিশ কর্মী না-থাকায় পরিস্থিতি আটকানো সম্ভব হয়নি।