দিল্লিতে এবার ‘দাবি ছিনিয়ে আনার লড়াই’, বকেয়া আদায়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সংসদে বিক্ষোভের প্রস্তুতি তৃণমূলের!

১০০ দিনের কাজ (MNREGA), আবাস যোজনা এবং অন্যান্য গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পের বকেয়া টাকা আদায়ের দাবিতে এবার সরাসরি দিল্লির রাজপথে নামতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার আর কেবল চিঠি চালাচালি নয়, বরং রাজধানীতে গিয়েই দাবি ‘ছিনিয়ে আনার লড়াই’ হবে।
সংসদের অধিবেশন চলাকালীন বিক্ষোভ
সাংসদ ও নেতৃত্বের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৃহত্তর বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করেন।
সময়: সংসদের শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন।
লক্ষ্য: আন্দোলনকে মন্ত্রকের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া।
মন্ত্রকে প্রবেশ: পরিকল্পনা অনুযায়ী, তৃণমূলের দু’টি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় সরকারের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকে যাবে—
একটি দল যাবে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকে (Ministry of Rural Development)।
অন্যটি দল যাবে জল জীবন মিশন বা জল শক্তি মন্ত্রকে (Ministry of Jal Shakti)।
অভিষেক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “দেখে নিতে চাই, কীভাবে বিজেপি বা দিল্লি পুলিশ সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই থামাতে পারে।”
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বকেয়া টাকা নিয়ে সংঘাত চরমে। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই নরেন্দ্র মোদি সরকার বাংলার প্রাপ্য টাকা আটকে রেখেছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ: অভিষেক অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবে গরিব মানুষের টাকা আটকে রেখেছে। তাঁর কথায়, “বিজেপি শাসিত সরকার বাংলার মানুষের সঙ্গে বৈষম্য করছে।”
কেন্দ্রের যুক্তি ও তৃণমূলের পালটা: কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দুর্নীতির অভিযোগ এবং হিসেব না-দেওয়ার যুক্তি দেওয়া হলেও, তৃণমূল তা মানতে নারাজ। তাদের দাবি, কেন্দ্র রাজ্যের শ্রমিকদের ভাতে মারার চক্রান্ত করছে।
দলীয় সূত্রে খবর, এই ‘দিল্লি চলো’ অভিযানের জন্য ইতিমধ্যেই জেলাস্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বকেয়া ইস্যুকে সামনে রেখে এই আন্দোলন তৃণমূলের এক বড় রাজনৈতিক কৌশল।