বিহার নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘বড় ষড়যন্ত্র’! দিল্লি পুলিশের জালে রঞ্জন পাঠক গ্যাং, ব্রহ্মশ্রী সেনা প্রধান-সহ একাধিক খুনে জড়িত ছিল যারা?

দীর্ঘ ছয় বছরের দৌরাত্ম্যের অবসান! বিহারের কুখ্যাত ‘সিগমা গ্যাং’-এর চারজন সদস্য দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা এবং বিহার পুলিশের যৌথ এনকাউন্টারে খতম হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে দিল্লির রোহিণীতে এই গুলির লড়াইয়ের ঘটনা ঘটে। পুলিশের গুলিতে চার দুষ্কৃতীরই মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এনকাউন্টার: ভোররাতে ১৫ মিনিটের গুলির লড়াই
পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রোহিণীর বাহাদুর শাহ মার্গের আম্বেদকর চক এবং পানসালি চকের মাঝে ভোর তিনটে নাগাদ এনকাউন্টারের ঘটনাটি ঘটে।

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই গ্যাংয়ের সদস্যরা একটি বড় ধরনের অপরাধমূলক কাজের পরিকল্পনা করছিল— এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং বিহার পুলিশের একটি যৌথ দল এলাকায় ফাঁদ পাতে।

এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক বলেন, “পুলিশের দল সন্দেহভাজনদের আটকানোর চেষ্টা করলে তারা পাল্টা গুলি চালায়। এরপর পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলি বিনিময় হয়, যা প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলে।” ঘটনায় চার অভিযুক্তই গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশও আহত হয়েছেন, যাঁরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

ঘটনাস্থল থেকে একটি স্বয়ংক্রিয় জিগানা পিস্তল এবং প্রচুর পরিমাণে কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

একাধিক খুন ও ডাকাতিতে ওয়ান্টেড ছিল গ্যাংস্টাররা
এনকাউন্টারে মৃত চারজনের নাম রঞ্জন পাঠক (২৫), বিমলেশ মাহাতো (২৫), মনীশ পাঠক (৩৩)— এরা সকলেই বিহারের সীতামারির বাসিন্দা এবং আমান ঠাকুর (২১) দিল্লির কারাওয়াল নগরের বাসিন্দা।

পুলিশ জানিয়েছে, এই চারজনই বিহারে একাধিক খুন, সশস্ত্র ডাকাতি-সহ বেশ কয়েকটি মামলায় ওয়ান্টেড ছিল। এই দলটি বিহারে ব্রহ্মশ্রী সেনা জেলা প্রধান গণেশ শর্মা, মদন শর্মা এবং আদিত্য সিং হত্যা-সহ একাধিক জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল বলেও অভিযোগ।

ডিপিসি ক্রাইম ব্রাঞ্চ সঞ্জীব যাদব এই অভিযানকে আন্তঃরাজ্য সমন্বয়ের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পুলিশ কর্তারা মনে করছেন, এই এনকাউন্টারের ফলে বিহার এবং দিল্লি-এনসিআরে সংগঠিত অপরাধের উপর বড় প্রভাব পড়বে এবং বেশ কয়েকটি বড় অপরাধমূলক পরিকল্পনা ব্যর্থ হলো। এই গ্যাংস্টারদের সহযোগী এবং তাদের অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক সনাক্ত করার জন্য আরও তদন্ত চলছে।