উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের রহস্যভেদে এবার কোমর বেঁধে নামল রাজ্য পুলিশ। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তড়িঘড়ি গঠন করা হয়েছে এক উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দল বা সিট (SIT)। একজন আইজি (IG) পদমর্যাদার দুঁদে আধিকারিকের নেতৃত্বে এই বিশেষ দলে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বারাসাত হাসপাতালে চন্দ্রনাথের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে এক নজিরবিহীন মন্তব্য করলেন শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশের পেশাদারিত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তিনি জানান, অপরাধীদের ধরতে পুলিশই যথেষ্ট।
তদন্তে ফরেন্সিক ও প্রযুক্তির ব্যবহার
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘাতকদের চিহ্নিত করতে এদিন সকালেই ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ দল মধ্যমগ্রামের দোহরিয়ার সেই রক্তস্নাত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সেখান থেকে বেশ কিছু বুলেটের খোল ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। আইজি-র নেতৃত্বাধীন সিট এখন দুষ্কৃতীদের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাকিং এবং এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি কোনো আনাড়ি দুষ্কৃতীর কাজ নয়, বরং পেশাদার শ্যুটারদের দিয়েই এই অপারেশন চালানো হয়েছে।
শুভেন্দুর গলায় ‘পুলিশ বন্দনা’
এদিন বারাসাত হাসপাতালে চন্দ্রনাথকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পুলিশ তদন্ত করছে এবং ডিজিপির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি পুলিশ যথাসময়ে সবটা জানাবে। পুলিশ পারে না এমন কোনও কাজ নেই। আগে হয়তো পুলিশকে কাজ করতে দেওয়া হত না, তবে এখন আমি ওদের ওপর আস্থা রাখতে চাই।” শুভেন্দুর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে, কারণ এর আগে তিনি বারবার পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনা ও রেইকি
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, খুনিরা চন্দ্রনাথকে মারার আগে দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় রেইকি করেছিল। তিনি বলেন, “পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী অন্তত ২-৩ দিন ধরে চন্দ্রনাথের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হয়েছিল। স্থানীয় কারোর সাহায্য ছাড়া বহিরাগতদের পক্ষে এই রেইকি করা অসম্ভব। এটি একটি ঠান্ডা মাথার সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।” তিনি আরও জানান যে, এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সবিস্তারে জানানো হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারসহ দলের বিধায়করাও শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
বর্তমানে সিট এই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ৪২ বছর বয়সী চন্দ্রনাথের বুকের বাঁ দিকে একদম পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়েছিল, যা নিশ্চিত করেছিল তাঁর মৃত্যু। এখন দেখার, আইজি-র নেতৃত্বাধীন এই বিশেষ দল কত দ্রুত এই হাই-প্রোফাইল খুনের নেপথ্যে থাকা মাস্টারমাইন্ডদের সামনে আনতে পারে।





