বিহারে ‘রাজনৈতিক দাসত্বের’ অবসানের ডাক, এনডিএ-মহাজোটের ভিড়ে ২৪৩ আসনে লড়ছে প্রশান্ত কিশোরের ‘জন সুরাজ’

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রখ্যাত রাজনৈতিক কৌশলবিদ এবং জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর রাজ্যের যুব সমাজকে এক জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। সীতামারহিতে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, তাঁর দল ক্ষমতায় এলে ছট পুজোর পর আর কাউকে রোজগারের সন্ধানে বিহারের বাইরে যেতে হবে না।
প্রশান্ত কিশোর বলেন, “জন সুরাজকে ভোট দিন… ছটের পর আর কাউকে রোজগারের খোঁজে বিহারের বাইরে যেতে হবে না।” তিনি দাবি করেন, বিহারের যুবকরা বিহারেই কাজ করতে চায় এবং এবার সময় এসেছে নিজেদের রাজ্যে নিজেদের সরকার গঠনের।
নীতীশ সরকারের বিরুদ্ধে পরোক্ষ আক্রমণ:
মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি না হলেও, পরোক্ষ আক্রমণ শানিয়েছেন কিশোর। তিনি রাজ্যের উন্নয়নমূলক বৈষম্য তুলে ধরে বলেন:
“যখন গুজরাটে এক লক্ষ কোটি টাকার বুলেট ট্রেনের কাজ চলছে, তখন বিহারের যুবকরা ছট উপলক্ষে বাড়ি ফেরার ট্রেনে সিট পেতে হিমশিম খাচ্ছে। এই বৈষম্যের শেষ করতে হবে।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সীতামারহি থেকেই ৩ বছর ৬ মাস আগে তাঁদের জন সুরাজ আন্দোলন শুরু হয়েছিল এবং তাঁরা শপথ নিয়েছিলেন, বিহারের ‘রাজনৈতিক দাসত্বের’ অবসান ঘটাবেন। তাঁর মতে, মানুষ ভয়ে বিজেপিকে ভোট দেয়, আবার লালুপ্রসাদ যাদবের আতঙ্কে অন্যদিকে ঝোঁকে। এবার পরিবর্তনের সময় এসেছে।
দলীয় সাংগঠনিক উন্নয়ন:
নির্বাচনের আগে জন সুরাজের শক্তিও বাড়ল। ওইদিনই গোপালগঞ্জের স্বতন্ত্র প্রার্থী অনুপ কুমার শ্রীবাস্তব আনুষ্ঠানিকভাবে জন সুরাজ দলে যোগ দেন। এর আগে গোপালগঞ্জ আসন থেকে জন সুরাজ প্রার্থী শশী শেখর সিনহা মনোনয়ন প্রত্যাহার করায়, দল শ্রীবাস্তবকে সমর্থনের ঘোষণা দেয়।
চলতি নির্বাচনে বিহারে প্রধানত দুটি জোট—এনডিএ (বিজেপি, জেডিইউ, এলজেপি, এইচএএম, আরএলএম) এবং মহাজোট (আরজেডি, কংগ্রেস, সিপিআই(এমএল) সহ বামেরা, ভিআইপি)—মুখোমুখি হলেও প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টি রাজ্যের সবকটি ২৪৩টি আসনেই লড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
প্রশান্ত কিশোরের কণ্ঠে স্পষ্ট “জন সুরাজ মানেই আত্মনির্ভর বিহার।” ভোটগ্রহণ হবে ৬ ও ১১ নভেম্বর, আর গণনা হবে ১৪ নভেম্বর।