‘বিষের মতো বর্জন করো একে!’ অবসাদ কাটাতে আর সফল হতে স্বামী বিবেকানন্দের অব্যর্থ দাওয়াই

আজ ১২ জানুয়ারি, স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মজয়ন্তী। দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় যুব দিবস। উত্তর কলকাতার সিমলা স্ট্রিটে স্বামীজির পৈতৃক আবাসে যেমন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভিড়, তেমনই গঙ্গার তীরে বেলুড় মঠে বইছে আধ্যাত্মিকতার জোয়ার। কিন্তু আজকের এই ইঁদুরদৌড়ের যুগে স্বামীজির প্রাসঙ্গিকতা কোথায়? কেনই বা আমরা সাফল্যের জন্য মন্দিরে বা জ্যোতিষীর দ্বারে না ঘুরে বিবেকানন্দকে আঁকড়ে ধরব?

স্বামীজির দর্শনের মূল ভিত্তি হলো— ‘শিবজ্ঞানে জীবসেবা’। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের মধ্যেই ঈশ্বর বিরাজমান। তাই জীবে প্রেম করাই ঈশ্বরের প্রকৃত আরাধনা। বর্তমান সময়ে যখন মানুষ মানসিক অবসাদ আর লক্ষ্যহীনতায় ভুগছে, তখন স্বামীজির ‘মিশন’ শব্দটিই হতে পারে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তিনি শিখিয়েছেন, “ওঠো, জাগো এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না।” এই অদম্য জেদই হলো মিশন, যা যে কোনও কাজে জয় এনে দিতে বাধ্য।

স্বামীজি বিশ্বাস করতেন ‘কর্মযোগে’। শ্রীরামকৃষ্ণ যেখানে একটি হাত সংসারে ও অন্য হাত ঈশ্বরে রাখার কথা বলতেন, স্বামীজি সেখানে কাজকেই উপাসনা করতে শিখিয়েছেন। তাঁর মতে, ফল নিজেই আসবে যদি কাজকে ঈশ্বরের প্রতি উৎসর্গ করা যায়। যারা আজ মানসিক অবসাদে ভুগছেন, তাদের উদ্দেশ্যে স্বামীজির বজ্রবাণী— “যা কিছু তোমাকে শারীরিকভাবে, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এবং আধ্যাত্মিকভাবে দুর্বল করে তোলে, তাকে বিষের মতো বর্জন করো।” আত্মবিশ্বাসই যে শেষ কথা, তা তিনি বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন।

১৮৯৭ সালে ১ মে প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মিশন আজ বিশ্বজুড়ে ত্যাগের প্রতীক। বিবেকানন্দ বলেছিলেন, কোনো নতুন সম্প্রদায় তৈরির জন্য রামকৃষ্ণের জন্ম হয়নি, বরং মানুষের কল্যাণের মাধ্যমেই নিজের মুক্তি খোঁজা হলো এই মিশনের সার্থকতা। আজ বেলুড় মঠে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শেষ লগ্নে মঙ্গলারতি ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। একদিকে আধ্যাত্মিক পরিবেশ, অন্যদিকে সিমলা স্ট্রিটে শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদারদের মাল্যদানকে কেন্দ্র করে রাজনীতির তর্জা— দুইয়ের মাঝে স্বামীজির আদর্শই হোক বর্তমান প্রজন্মের পথপ্রদর্শক।