“বিষাক্ত কাশির সিরাপে ১৮ শিশুর মৃত্যু, আতঙ্ক বাড়তেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কড়া সতর্কতা! ২ বছরের কম বয়সীদের জন্য জারি হল জরুরি নির্দেশিকা”

মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানে বিষাক্ত কোল্ডরিফ কাশির সিরাপ খেয়ে মোট ১৮টি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। এই বিপর্যয়ের পরই ডিরেক্টর জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসেস (DGHS) শিশুদের কাশির সিরাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও ওষুধ বিক্রেতাদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের জারি করা সতর্কবার্তায় শিশুদের অকারণ ও ভুল কাশির সিরাপ খাওয়ানোর প্রবণতা আটকাতে জোর দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশুদের কাশি নিজের থেকে কমে যায় এবং এর জন্য কোনও ওষুধের প্রয়োজন হয় না।

শিশুদের কাশির সিরাপ নিয়ে কঠোর নির্দেশিকা:
ডিজিএইচএস-এর সতর্কবার্তায় কয়েকটি বিষয়ে কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:

১. ২ বছরের নীচে নয়: কোনও ভাবেই দু বছরের নীচের শিশুদের কাশির সিরাপ দেওয়া উচিত নয়।
২. ৫ বছরের নীচে না দেওয়ার পরামর্শ: ৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রেও সাধারণত কাশির সিরাপ না দেওয়ারই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৩. ডোজ কঠোরভাবে মানতে হবে: পাঁচ বছরের উপরের শিশুদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ীই কাশির সিরাপ খাওয়ানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসক ওষুধের যে ডোজ লিখে দেবেন, বাবা-মায়েদের তা কঠোর ভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে।
৪. অতিরিক্ত জল ও বিশ্রাম: একাধিক ওষুধ মিশিয়ে না খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছে ডিজিএইচএস। এর পরিবর্তে শিশুদের বেশি করে জল খাওয়ানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
৫. নিজ থেকে ওষুধ নয়: যেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশুদের সর্দি কাশি নিজের থেকে কমে যায়, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে ওষুধ না দেওয়ার জন্য বাবা-মায়েদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিপর্যয়ের নেপথ্যে বিষাক্ত উপাদান:
জানা গিয়েছে, এই বিপর্যয়ের পর মধ্যপ্রদেশে একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি, তামিলনাড়ুর যে সংস্থা এই বিষাক্ত ওষুধ তৈরি করেছিল, তাদের বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের করেছে মধ্যপ্রদেশ সরকার।

কোল্ডরিফ নামের ওই কাশির সিরাপ পরীক্ষা করে সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ওষুধটির ভিতরে ৪৮.৬ শতাংশ ডিয়েথাইলিন গ্লাইকল নামে একটি অত্যন্ত বিষাক্ত উপাদান পাওয়া গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিষাক্ত উপাদান ১ শতাংশের কম থাকা উচিত। সরকারি আধিকারিকদের দাবি, মাত্রাতিরিক্ত হারে এই বিষের উপস্থিতির কারণে এই ওষুধ খেলে শুধু শিশুরা নয়, বড়দেরও প্রাণ সংশয় হতে পারে।